গোপাল সিং, খোয়াই, ২৪ মে || ‘ন্যাচারাল ড্রয়িং’ বা প্রাকৃতিক অঙ্কনশৈলী শেখার ক্ষেত্রে খোয়াই জেলা তথা সমগ্র রাজ্য ও জাতীয় স্তরে এক বিশিষ্ট নাম হলো প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অমল নাথশর্মা। তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা ও নিপুণ তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা অন্যতম প্রথম সারির অঙ্কন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘চিত্রবাণী’র বার্ষিক পরীক্ষা আজ অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো খোয়াই মহকুমার ঐতিহ্যবাহী ভোলাগিরি আশ্রমে। রবিবাসরীয় এই বিশেষ আয়োজনে চিত্রবাণী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মোট ১৬৪ জন উৎসাহী পরীক্ষার্থী অংশ নেয় বলে আগরতলা সরকারি আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট কলেজের অধ্যাপক জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানান। অনুষ্ঠান মঞ্চে শিক্ষক অমল নাথশর্মার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন খোয়াইয়ের বরিষ্ঠ সাংবাদিক গোপাল সিং এবং বিশিষ্ট সঙ্গীতগুরু তথা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মধূসুধন দাস প্রমুখ গুণীজনেরা।
এদিন মূল পর্বের অনুষ্ঠানের শুরুতেই এক রাজকীয় অভ্যর্থনার মাধ্যমে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ যথাক্রমে মধূসুধন দাস, সাংবাদিক গোপাল সিং এবং অধ্যাপক জয়দ্বীপ ভট্টাচার্যকে উত্তরীয়, সুদৃশ্য ফুলের তোড়া ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করে সংস্থার পক্ষ থেকে সম্মানিত করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বলন ও বরণ পর্বের পর মঞ্চে উপস্থিত অতিথিরা সমসাময়িক সমাজব্যবস্থার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল যুগের নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বিশেষ আহ্বান জানান। অতিথিরা বলেন, আজকের দিনে শিশুরা যেভাবে মোবাইল এবং ভার্চুয়াল স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে অঙ্কন ও সঙ্গীতের মতো সুস্থ সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের ব্যস্ত করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সংস্কৃতি চর্চাই পারে যুবসমাজকে সঠিক দিশা দেখাতে।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা আগরতলা আর্ট কলেজের অধ্যাপক জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য তাঁর ভাষণে বলেন যে, প্রতিদিন অন্তত নিয়ম করে কিছুটা সময় হলেও অঙ্কন চর্চা করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত আবশ্যক। সারাদিনের শত ব্যস্ততার মাঝেও অন্তত একটুখানি হলেও নতুন কোনো রেখাচিত্র বা স্কেচ তৈরি করার অভ্যাস ধরে রাখা খুব জরুরি, যা একজন শিল্পীর মনকে সজীব রাখে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমান সময়ে চিত্রশিল্প শুধুমাত্র মনের খোরাক জোগানোর মাধ্যম নয়, বরং এর হাত ধরে আজকের দিনে চমৎকার ক্যারিয়ার গঠন করা সম্ভব এবং এই ক্ষেত্রে সফল হয়ে সরকারি বা বেসরকারি স্তরে ভালো চাকরিজীবী হওয়াও কোনো কঠিন বিষয় নয়। বিশেষ করে বর্তমান যুগে গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের মতো আধুনিক ও লাভজনক পেশায় নিজেকে সফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে একজন দক্ষ চিত্রশিল্পীর মতো সৃজনশীল ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়, যা এই ধরণের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেই অর্জন করা সম্ভব। পুরো অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এক দারুণ উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে।
