গোপাল সিং, খোয়াই, ২৪ মে || খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকারের তৎপরতায় এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ফলে এক অভাবনীয় সাফল্য মিলল খোয়াইতে। খোয়াই থানা এলাকা থেকে চুরি হয়ে জলপথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাওয়া একটি দামী পালসার মোটরবাইক মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করে খোয়াইতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার এবং বিএসএফ-এর এই যৌথ ও তড়িৎ প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ই মে সোমবার গভীর রাতে খোয়াই থানাধীন বনকর এলাকার (ওয়ার্ড নং- ০৭) বাসিন্দা রাজীব চন্দ্র দাসের বসতবাড়ির আঙিনা থেকে তাঁর TR01AT-7097 নম্বরের মূল্যবান ‘বাজাজ পালসার এনএস-১২৫’ (BAJAJ PULSAR NS-125) বাইকটি চুরি করে নিয়ে যায় একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১৯ই মে মঙ্গলবার সকালে বাইকের মালিক রাজীব চন্দ্র দাস (পিতা- বাবুল চন্দ্র দাস) খোয়াই থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়া মাত্রই খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি আমলে নেন। চোরাই বাইকটি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে ওসি তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ স্থাপন করেন পহরমুড়া ১০৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের স্টেনলি বিএসএফ (BSF) ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের সাথে। বিএসএফ-এর পক্ষ থেকেও কালবিলম্ব না করে ওপার বাংলার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর সাথে জরুরি যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান করা হয়।
ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই দ্রুত ও যৌথ সমন্বয়ের ফলেই মেলে বড় সাফল্য। নদীপথ ব্যবহার করে বাইকটি ওপারে পাচার করে দেওয়া হলেও, বিজিবি তল্লাশি চালিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে অক্ষত অবস্থায় বাইকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বুধবার, ২০শে মে, সমস্ত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজিবি-র তরফ থেকে উদ্ধার হওয়া মোটরবাইকটি পুনরায় ত্রিপুরায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
একটি দামী মোটরবাইক চুরির পর আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তা যেভাবে অতি দ্রুত উদ্ধার করে আনা হয়েছে, তা এককথায় নজিরবিহীন। খোয়াইবাসীর মতে, এটি কেবল কপাল জোরে ফিরে আসেনি, বরং খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার ও বিএসএফ-এর আন্তরিক সদিচ্ছা এবং প্রশংসনীয় দৌড়ঝাঁপের ফলেই প্রকৃত মালিক তাঁর সাধের বাইকটি ফেরত পেতে চলেছেন। পুলিশের এই ভূমিকায় স্বস্তি ও খুশির হাওয়া বনকর এলাকায়।
