শ্রীলঙ্কার স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ভারত

ckখেলাধুলা ডেস্ক ।। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৯৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল ভারত। লঙ্কান যুবাদের স্বপ্ন ভেঙে অনায়াস এই জয় তুলে নিল তিনবারের যুব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে উঠল।
মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লঙ্কান অধিনায়ক। ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৭ রান সংগ্রহ করে ভারত। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪২.৪ ওভারে ১৭০ রানেই অল-আউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তাতেই ৯৭ রানের দারুণ জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে গেল রাহুল দ্রাবিড়ের শিষ্যরা। ভারতীয় যুবাদের ছুঁড়ে দেয়া ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চারজন ব্যাটসম্যান ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের রানের ঘর ছুঁতে পারেননি। ফলাফল- ১০০ রান তোলার আগেই সাজঘরে চার লঙ্কান ব্যাটসম্যান। সেই চাপ আর সামলে উঠতে পারেননি দলটি। তারপরও কামিন্দু মেন্ডিসের ৩৯, সাম্মু আশহানের ৩৮, ভিশাদ রান্ডিকার ২৮ এবং ধামিথা সিলভার ২৪ রানে ভর করে হারের ব্যবধানটাই শুধু কমিয়েছে শ্রীলঙ্কার যুবারা। তাতে ১৭০ রানেই সবগুলো উইকেট হারিয়ে ৯৭ রানের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ে লঙ্কানরা। যাতে ২০০০ সালের পর ফাইনালে ওঠার স্বপ্নটা আবারো ভেঙে গেল তাদের।
ভারতের হয়ে ৩টি উইকেট তুলে নিয়েছেন মায়াঙ্ক ডাগার। আর দুটি উইকেট তুলে নিয়েছেন আভিশ খান। একটি করে উইকেট নিয়েছেন খালিল আহমেদ, রাহুল বাথাম এবং ওয়াশিংটন। এর আগে, টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতীয় যুবাদের। দলীয় ২৭ রানেই নেই ২ উইকেট। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে আনমোলপ্রিত সিং এবং সারাফরাজ খানের ৯৬ রানের জুটিতে কিছুটা স্বস্তি পায় ভারত। তবে ব্যক্তিগত ৫৯ এবং দলীয় ১২৩ রানে বিদায় নেন সরফরাজ। তার ব্যাট কথা বলছে প্রতি ম্যাচেই। আগের চার ম্যাচে করেছেন ৭৪, ৭৪, অপরাজিত ২১ ও ৭৬ রান। সিরিজ সেরার দৌড়ে বেশ এগিয়ে গেলেন এই ভারতীয় যুবা। এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে ওয়াশিংটন সান্দারকে নিয়ে ৭০ রানের আরেকটি জুটি গড়েন আনমোলপ্রিত। ৬টি চার ও ১ ছয়ে ৭২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলতে নেমেই আনমোলপ্রিত দেখালেন যোগ্যতার পরিধি। ১৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে দেওয়া আম্পায়ারের আউট নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন তুললেন ভারতীয় সমর্থকরা। আর ব্যক্তিগত ৪৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ভারতের যুবাদের দলীয় স্কোর তখন ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৮। আর শেষদিকের ব্যাটসম্যানরা বড় অবদান রাখতে না পারলেও কিছুটা এগিয়ে দেন দলকে। আরমান জাফারের ২৯, মাহিপাল লুমরোর ১১ ও মায়াঙ্ক ডাগারের ১৭ রানে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৬৭ রানের লড়াই করার মতো স্কোর দাঁড় করায় ভারত।
লঙ্কান যুবাদের হয়ে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছেন আসিথা ফার্নান্দো। আর লাহিরু কুমারা ও থিলান নিমেশ নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। ভারতের যুবারা এমন অনায়াস জয় দিয়ে বুঝিয়ে দিল শিরোপা জিততেই বাংলাদেশে এসেছে দলটি। ১৪ ফেব্রুয়ারি ফেভারিট থেকেই ফাইনালে খেলতে নামবে তারা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*