আবর্জনার স্তূপ পাহাড় হচ্ছে খোয়াই শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেই

moyla.jpg1গোপাল সিং, খোয়াই, ২৬ ফেব্রুয়ারী ।। আজ থেকে ৬০ বছর আগে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছিলেন দুই পর্বতারোহী। এরপর এখন পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেছেন৷ এছাড়া ৮,৮৪৮ মিটারের এই পর্বতে প্রতি বছর আরোহণ করেন হাজারো মানুষ৷ তবে এঁদের প্রত্যেকেই যে পর্বত আরোহণের জন্য প্রশিক্ষিত, তা নয়৷ অনেকের দুঃসাহসিক অভিযান বা রোমাঞ্চের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি৷ ফলে প্রশিক্ষণ না থাকায় তাঁরা এভারেস্টের পরিবেশ দূষিত করছেন, রেখে আসছেন নানা আবর্জনা৷ এ সব আবর্জনার মধ্যে রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, মনুষ্য বর্জ্য, এমনকি মৃত পর্বত আরোহীদের শরীরও, যা পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে৷ গত ছয় দশকে অন্তত ৫০ টন আবর্জনা জমেছে সেখানে৷ এ জন্য এভারেস্টকে বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ‘ডাস্টবিন’৷
ডাস্টবিন সর্বত্র থাকলেও আবর্জনার স্তূপ কিন্তু ডাস্টবিনের আনাচে-কানাচে, শহরের অভ্যন্তরে ব্যস্ততম এলাকায় স্তূপাকৃতি কেবলই পাহাড়ের রূপ নিচ্ছে। যেমন খোয়াই পুর পরিষদ এলাকা। বিশেষ বিশেষ এলাকাগুলিতে রাস্তার মোড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ মানুষের যন্ত্রনার কারন হয়ে উঠেছে। যত্র-তত্র এসব ময়লা-আবর্জনা জমা হয়ে থাকে। যে কারনে পৌর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এলাকায় পঁচা-দূর্গন্ধ ছড়ায়। শুধু পৌর সভার আবর্জনা নয়, প্রায় প্রত্যেকটি বিদ্যালয়গুলোও অপিরস্কার। জনগন বলছেন, সচ্ছ ভারত অভিযান নামে একটি প্রকল্প চলছে। কিন্তু সমাজকে প্রকৃতপক্ষে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে তুলতে সঠিক সচেতনতামূলক প্রচার বা উদ্যোগ দেখা যায়না।
অথচ মাননীয় রাজ্যপাল যখন খোয়াই শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঝাড়ু হাতে স্বচ্ছ ভারত অভিযানে রাস্তা পরিস্কারে হাত লাগালেন, তখন কিন্তু রাজ্যপালের সাথে ছবিতে এক ফ্রেমে আসতে অনেককেই উদ্যোগী হতে দেখা যায়। ঝাড়ু হাতে উপচে পড়া ভীড় দেখে মাননীয় রাজ্যপালও সন্তুষ্ট হয়ে ফিরেন। আবার যখন দ্বিতীয়বার একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করতে মাননীয় রাজ্যপাল খোয়াই এলেন, তখনও খোয়াই সহ ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানীর স্বচ্ছভাব দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। খোয়াইয়ের অফিসটিলা থেকে সুভাষপার্ক হয়ে নৃপেন চক্রবর্তী এভিন্যু পর্যন্ত একদম ঝকঝকে করে তোলার ফলে এই বা:বা: কুড়িয়ে নেওয়ার পেছনে আবর্জনার স্তূপ বা দূর্গন্ধ কিন্তু কেউ টের পাননি। মাননীয় রাজ্যপালও নন।
খোয়াই শহরের বিভিন্ন পথ-ঘাট, স্কুল চত্বর কিংবা অভ্যন্তরে তথৈবচ অবস্থা। অপরিচ্ছন্ন খোয়াইয়ের পেছনে পৌর সভার দূরদর্শিতার অভাব আছে বলেই মনে করছেন জনসাধারন। শুধুমাত্র পুর পরিষদকেই দায়ি করলে চলবে না। এই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য দায়ী জনগনের অসচেতনতাও। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, এবং সেই অবর্জনা দিনের পর দিন পঁচে গলে দূর্গন্ধ ছড়ালেও কোনও উদ্যোগ নেই জনগনেরও। নুংরা-আবর্জনাময় পরিবেশ গড়ে তুলছেন অসচেতন জনগনই। দায় এড়াতে পারবেনা পুর পরিষদও।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*