জলের ট্যাঙ্ক উপচে অপচয় হচ্ছে জল – সব দেখেও দপ্তর নীরব

tankগোপাল সিং, খোয়াই, ০৬ আগষ্ট ।। পৃথিবীর তিন ভাগই জল। তবুও এই গোটা পৃথিবী অচিরেই তীব্র জল সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। বাদ যাবেনা ত্রিপুরা রাজ্যের নামও। এর কারন হিসাবে শুধু রাবার বাগানের আধিক্য কিংবা প্রতিটি রাবার গাছ প্রতিদিন ৯০ লিটার ভূগর্ভস্থ জল শুষে নিচ্ছে বলে বৈজ্ঞানিক তথ্যের বাইরেও জল অপচয় সবচাইতে বড় কারন হিসাবে উঠে আসছে। ছবিতে যে ভবনের উপর জলের ট্যাঙ্ক থেকে অনর্গল জলের অপচয় হতে দেখা যাচ্ছে সেটি খোয়াই জেলা হাসপাতালের পরিত্যাক্ত কোয়ার্টারের দৃশ্য। এই পরিত্যাক্ত কোয়ার্টারে পানীয় জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করায় বছরের পর বছর ধরে এভাবেই কাতারে কাতারে জল বিনষ্ট হচ্ছে। অথচ জেলা হাসপাতালের রোগীরা শৌচাগার ব্যবহার করতে বাজার থেকে মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিনে শৌচ কার্য্য সম্পন্ন করছেন। কি নিদারুন দৃশ্য বটে! একদিকে শত শত লিটার জল প্রতিদিন অপচয়ের স্বীকার হচ্ছে অন্যদিকে খোলা বাজার থেকে মিনারেল ওয়াটার কিনে জলের ঘাটতি মিটানো হচ্ছে। এই ছিল হাসপাতাল কোয়ার্টার এর একটি ছবি। গোটা খোয়াই জুড়ে এমন দৃশ্য ভরে পড়ে আছে। বিশেষ করে সরকারী কোয়ার্টার, বাবুয়ানা বাড়ী-ঘরে জলের অপচয় বেশী হচ্ছে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে সর্বত্রই জলের অপচয় রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে প্রশাসন চাইলে হয়তো এমনটা হতোনা। প্রশাসন কড়া মনোভাব নিয়ে কিছু অভিযান চালিয়ে এই জলের অপচয় কিছুটা রোধ করতে পারে, কিন্তু হচ্ছে ঠিক তার উল্টো। খুদ প্রশাসনিক আমলা-কর্তাদের আবাসনেই জলের অপচয় বেশী হচ্ছে। আর তাতেই জল সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এদিকে তথ্য বলছে খোয়াই পুর এলাকায় প্রায় ১৩৮টি মোটর জলের পাইপে লাগানো আছে। যা অবৈধ। জল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটর দিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় এমনকি তৃতীয় তালায় জল তোলা হচ্ছে। সাথে রয়েছে শখের ফুল বাগানটি। বাবুয়ানা খেতেও এভাবেই জল দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে পাইপ লাইনে জল টিমটিম করে গড়িয়ে পড়ছে। এবিষয়ে দপ্তরকে জানিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা। তবে কি মোটর চালিয়ে যারা জল তোলেন তাদের সাথে গোপন লেনদেন, বোঝাপড়া কিংবা যোগ-সংযোগ রয়েছে দপ্তরের? প্রশ্ন জনসাধারনের। যদি এমনটা নাই বা হয় তবে কেন অবৈধ মোটরগুলি খোলা হচ্ছেনা? কেন ঘন্টার পর ঘন্টা প্রতিদিন নিয়ম করে সরকারী দপ্তর, আবাসিকে জলের অপচয় হলেও ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং প্রশাসন? খোয়াইয়ের সমস্ত অংশের মানুষের স্বার্থে, আগামী দিনে জল সংকটের কড়াল গ্রাসে চলে যাবার হাত থেকে রেহাই পেতে প্রশাসন কি পদক্ষেপ গ্রহন করে এখন তাই দেখার। অন্তত জনগন সেদিকেই তাকিয়ে। তবে একদিকে প্রচন্ড দাবদাহ অন্যদিকে ক্রমান্বয়ে বৃষ্টিপাতের অনুপাত ত্রিপুরা রাজ্যে কমে যাওয়া খুবই উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে। ভাববার বিষয় হচ্ছে ত্রিপুরার মাটির নীচের জলস্তর দেড় মিটার নীচে চলে গেছে। রাবার গাছ বিপুল জল শুষে নিচ্ছে বলেই এমনটা হচ্ছে। কিন্তু আগামী দিনে ভয়াল জল সংকটের মুখে বাড়ী-ঘর থেকে সরকারী অফিস, কিংবা সরকারী আবাসন বা কোয়ার্টারগুলিতে প্রতিদিন দিনে দু’বেলা করে জলের ট্যাঙ্ক উপচে অনর্গল পড়ছে বহু মূল্যবান পানীয় জল। যে জল জীবনের অপর নাম। চলতি বছর শুখা মরশুম শুরু হওয়ার আগেই জলের জন্য হাহাকার শুরু হয়ে গিয়েছিল। রামচন্দ্রঘাট-আশারামবাড়ী, খোয়াই বিধানসভা এলাকাজুড়ে জনগন বিশেষ করে গ্রামীন এলাকার জনসাধারন খুব বেশি ভোগান্তির স্বীকার হন। গ্রামীন এলাকার জনগন জলের অভাবেই শুধুমাত্র নাকাল হননি, কৃষি কাজের জন্যও জলের সংকটে ভুগলেন কৃষকরা। অথচ ডি-ডাব্লিউ-এস দপ্তর সমগ্র খোয়াই জেলায় বড় বড় হোর্ডিংয়ে বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করেই দায়িত্ব খালাস বলে মনে করছে। রাস্তায় রাস্তায় হোর্ডিং বা জনসচেতনতা শিবিরে সরকারী অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সেজন্যই কি জনগনের সেবা করার দায়ভার নিতে নারাজ সেবকগন? প্রশ্ন জনমনে।  একদিকে জলস্তর নামছে অন্যদিকে ভূমিকম্প প্রবন এলাকা হিসাবে ত্রিপুরা রাজ্যের ৫নং জোনে থাকা। বিপদের দিকে আমরা ত্রিপুরাবাসী ক্রমশ: এগিয়ে যাচ্ছি। ঘোর বিপদ যে আসন্ন তা আঁচ করতে পেরেও খোয়াইয়ের বিভিন্ন সরকারী অফিস, কোয়ার্টারে এভাবে দিনের পর দিন ঘন্টার পর ঘন্টা জলের অপচয় হচ্ছে। জনগন যেখানে বিলাপ করা ছাড়া আর কিছুই করে উঠতে পরছেন না তেমনি জল দপ্তর সব দেখেশুনেও নীরব ভূমিকায়। খোয়াই অফিসটিলায় প্রতিটি অফিস এবং কোয়ার্টারগুলিতে প্রতিদিন জলের ট্যাঙ্ক ভরে জল উপচে পড়তে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। হাজার হাজার লিটার জল বিনষ্ট হচ্ছে। খোয়াই জেলা হাসপাতালের কোয়ার্টারগুলিতেও একইভাবে জলের প্রচন্ড অপচয় হচ্ছে। অথচ উনারাই শহরে ও গ্রামে সচেতনতা শিবিরে গিয়ে নানান উপদেশ দিয়ে চলছেন। যদিও খোয়াইতে এভাবে মাত্রারিক্তভাবে জলের অপচয় সংক্রান্ত সংবাদ জাগরন পত্রিকায় বহুবার প্রকাশিত হয়েছে। দপ্তরের গাফিলতি, আম জনতার উদাসীনতায় খোয়াই মহকুমার জলস্তর শেষ অবধি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা সময়ই বলবে। কিন্তু জলের অপচয় রোধে বহু দূর পিছিয়ে রয়েছে প্রশাসন। শুধুমাত্র জেলা হাসপাতাল কোয়ার্টার ও অফিসটিলার কোয়ার্টারগুলিতেই যেন এক সমুদ্র জলের অপচয় হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। তাই কার্য্যত বলাই যায়, আগামী দিনে যদি বিশ্বযুদ্ধ হয় তবে তা হবে জল নিয়েই।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*