গোপাল সিং, খোয়াই, ১২ আগষ্ট ।। বেপরুয়া যান চলাচলে আবারও দূর্ঘটনা খোয়াইতে। বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ খোয়াই থানাধীন সোনাতলা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্য্যালয়ের সন্নিকটে মূল সড়কে দূর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার বিবরনে জানা যায়, রতনপুর নিবাসী প্রশান্ত দেববর্মা ও বীরকুমার দেববর্মা নামে দুই যুবক বাইকে করে বাড়ীর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। এমন সময় বেপরুয়া বাইক চালানোর ফলে সোনাতলা এলাকায় আসতেই এক সাইকেল আরোহীকে সজোরে ধাক্কা মারে বাইকটি। সঙ্গে সঙ্গে ছিটকে পড়ে সাইকেল আরোহী বিশ্বজিৎ দেব। দূর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয় বাইক চালক প্রশান্ত দেববর্মা। অপর বাইক আরোহী বীরকুমার দেববর্মা এবং সাইকেল আরোহী বিশ্বজিৎ দেবের আঘাত তেমন গুরুতর ছিলনা। তাদের সঙ্গে সঙ্গে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গুরুতর জখম প্রশান্ত দেববর্মা মাথা ফেটে যাওয়ায় তার মাথায় সেলাই লাগে। বাকি দুজনেরও প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। খবর পেয়ে পৌছায় পুলিশও। এদিকে আঘাত গুরুতর হওয়ায় রাতেই প্রশান্ত দেববর্মাকে জিবি স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু বিনা কারনেই বাকি দুজন দূর্ঘটাগ্রস্থ ব্যাক্তিকেও জিবি স্থানান্তর করা হয়। আর তাতেই শুরু হয় গুঞ্জন। আহতদের পাশে ছিলনা পরিবারের কোন লোকজন। তাছাড়া সামান্য ঘটনাতেও দেখা যাচ্ছে খোয়াই জেলা হাসপাতাল থেকে রোগীদের যেকোন সময় জিবি স্থানান্তর করা হচ্ছে। অসময়ে তড়িঘরি এভাবে রোগীদের জিবি স্থানান্তর করার ফলে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে রোগীদের। তাহলে কি সামান্যতম চিকিৎসা ব্যবস্থাও নেই খোয়াই জেলা হাসপাতালে? প্রশ্ন জনমনে। প্রশ্ন উঠছে কর্তব্যরত চিকিৎসক, এমডি ড. অর্ণব দেববর্মার দায়িত্ববোধ নিয়েও। খোয়াই জেলা হাসপাতালে সব ধরনের উন্নতমানের চিকিৎসা সামগ্রী থাকা সত্বেও সামান্য প্রাইভেট প্রেক্টিসের লোভে পা ফেলে এভাবেই সামান্যতম কারনেও রোগীদের জিবি রেফার করা হচ্ছে। আর এই হয়রানির পেছনে ডাক্তার বাবুদের প্রাইভেট প্রেক্টিসকেই দায়ী করছেন জনসাধারন। বৃহস্পতিবারের ঘটনাতেও দেখা যাচ্ছে একজনের আঘাত গুরুতর হলেও বাকি দুজনের চিকিৎসা খোয়াই জেলা হাসপাতালেই করা সম্ভব হলেও উনার প্রাইভেট চেম্বারে রোগীদের লম্বা লিষ্ট উনাকে ভাবিয়ে তোলে। প্রাইভেট চেম্বারে ৭০-৮০ জন রোগীদের পরিষেবা দেবার জন্যই কি ডাক্তার বাবু এই ফন্দি এঁটেছেন? প্রশ্ন জনগনের। কারন এই রোগীদের ভর্ত্তি করানো হলে পরদিন এদের জন্য সময় দিতে হবে, হাসপাতালে আসতে হবে। কিন্তু এত সময় কোথায় ডাক্তার বাবুর কাছে? খোয়াই জেলা হাসপাতালে সর্বসুবিধা থাকা সত্বেও দিনের পর দিন এভাবে কেন রোগীদের হয়রানি করা হচ্ছে এর বিহিত চাইছেন জনসাধারন।
