গোপাল সিং, খোয়াই, ১৪ আগষ্ট ।। রাতের আঁধারে নিশিকুটুম্বদের দৌড়াত্বের দিন যেন ফুরিয়ে এসেছে। এবার প্রকাশ্য দিবালোকেই দিবাকুটুম্বদের যন্ত্রনায় নাভি:শ্বাস আম জনতার। যেখানে, যে শহরে পুলিশই নিষ্ক্রীয় সেই শহরে চোর এবং চুরি দুটোর সংখ্যাই ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবারই কথা। খোয়াই পুর এলাকায় এনিয়ে টানা বেশ কয়েকটি বড় বড় চুরির ঘটনা ঘটে গেলেও পুলিশি নিষ্ক্রীয়তায় একটি চুরির ঘটনারও কুলকিনারা হয়নি। শনিবার রাতে কোন এক সময় খোয়াই থানাধীন অফিসটিলা মাষ্টার পাড়া এলাকায় দু:সাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে গেলেও পুলিশ রবিবার দিনভর মাথা খাটিয়েও টিক্কির নাগাল পেলনা কোন কিছুরই। অথচ ইদানিং সময়ে বিপিসি পাড়া, গনকি, লালছড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকেই বড় বড় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত একটি চুরির ঘটনারও কিনারা করতে পারেনি খোয়াই পুলিশ প্রশাসনের কর্তা বাবুরা। এদিকে শনিবার রাতের ঘটনায় দেখা গেছে পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতিকেই চুরির মুখ্যম সময় হিসাবে ধরে নিয়ে বড় সর হাত সাফাই করল চোরেরা। ৫-৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার সহ নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে জানালেন গৃহকর্তা পবন দাস। যদিও পবন বাবুর স্ত্রী’র মতে প্রায় ৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়েছে। স্বামী এবং স্ত্রীর দুই জবানবন্দিতে ধ্বন্দে পুলিশও। এদিকে ঘটনার বিবরন দিতে গিয়ে পবন বাবু জানালেন শনিবার ১৩ই আগষ্ট উনার স্ত্রী ও দুই মেয়ে বাড়ীতে ছিলেন না। পবন বাবু খোয়াই নবোদয় বিদ্যালয়ের কর্মচারী। তাই তিনি শনিবার রাতে সেখানেই ছিলেন। উনার স্ত্রী ও দুই মেয়ে ছিল আগরতলায়। সেই সুযোগে বাড়ীর মূল ফাটক সহ মোট তিন-তিনটি তালা ভেঙে চোরেরা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে এবং সমস্ত কিছু তছনছ করে ফেলে। পুরো ঘরের ভেতর যেন যুদ্ধ হয়েছে বলে মনে হয়। রবিবার সকালে গৃহকর্তা পবন বাবু বাড়ীতে এসে দেখেন মূল ফাটকের তালা খোলা। ভেতরে প্রবেশ করতেই উনার চোখ ছানাবড়া হয়ে পড়ে। ঘর তখন রণক্ষেত্রের চেহারা। ঘরের মধ্যে প্রতিটি আসবাবপত্র থেকে জামা-কাপড়, কাগজ-পত্র সব কিছুই এলোমেলো অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। আলমিরাগুলি ছিল খোলা অবস্থায়। আলমিরাগুলি থেকে সমস্ত স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা গায়েব ছিল। গৃহকর্তা পবন বাবুর স্ত্রীর কান্না যেন থামছিল না। সামনেই মেয়ের বিয়ে। অতি যত্ন করে মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা গয়নাগুলিও চলে গেছে বলেই মায়ের বিলাপ কে দেখে !!!! কিন্তু এত পরিমানে স্বর্ণালঙ্কার ঘরে রাখা নিয়ে পবন বাবুর পরিবারের চরম উদাসীনতা কিন্তু কাল হয়ে দাঁড়ালো। তবে দিনের পর দিন প্রকাশ্য দিবালোকে একের পর এক চুরির ঘটনা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে পুলিশের দিকে। অফিসটিলা মাষ্টার পাড়ার এতবড় চুরির ঘটনার খবর পৌছতেই ছুটে আসে খোয়াই থানার পুলিশ। শুরু হয় প্রাথমিক তদন্ত। সারা দিন দৌড়ঝাঁপের পর দিনের শেষে এসে পৌছায় ডগ স্কোয়াড। যদিও ততক্ষনে ডগ স্কোয়াডেরও কিছু করার বাকি ছিলনা। প্রশ্ন উঠছে কেন খবর পাওয়া মাত্রই ডগ স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হলনা? যদি সময় মতো খবর দেওয়া হতো তবে হয়তো কিছু করার ছিল ডগ স্কোয়াডের। কিন্তু ঘটনাস্থলে বহু মানুষের উপস্থিতি, সামান্য বৃষ্টিপাতে ডগ স্কোয়াডের সমস্ত রাস্তাই নাকি বন্ধ করে দেয়। তাই খালি হাতেই ফিরতে হয় ডগ স্কোয়াডকে। যদিও পুলিশের মতে খোয়াই থেকে গাড়ী নিয়ে তবেই ডগ স্কোয়াডকে আনতে হয়। তাই সময় লাগে বেশী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে মাষ্টার পাড়া সহ পুর এলাকার অধিকাংশ গলিপথে স্ট্রীট লাইট না থাকায় নিশিকুটুম্বদের স্বর্গরাজ্য হয়ে পড়েছে ঐসব এলাকাগুলি। পুর পরিষদে এবিষয়ে বারবার জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। তাছাড়া বাড়ীর লোকেদের অনুপস্থিতিতে দিনের পর দিন দু:সাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে চললেও পুলিশ কেন নীরব ভূমিকায়? এনিয়েও প্রশ্ন জনমনে। একের পর এক ঘর নি:স্ব হচ্ছে কিন্তু তাতে পুলিশের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই! স্বাভাবতই জনমনে এনিয়ে ক্ষোভ ধূমায়িত হচ্ছে।
