বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রয়াসে ছাত্র-ছাত্রীদের খাওয়ানো হল মাংস-ভাত

mdmগোপাল সিং, খোয়াই, ২৪ জানুয়ারী ৷৷ খোয়াই শহর থেকে অনতিদূরে অবস্থিত পশ্চিম সিঙ্গিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত। খোয়াই বিদ্যালয় পরিদর্শকের অধীন পশ্চিম সিঙ্গিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন পশ্চিম সিঙ্গিছড়া গভ: কলোনী উচ্চবুনিয়াদী বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগটি ৮০’র দশকে পথ চলা শুরু করেছিল। তারপর এই স্কুলটি এসবি স্কুলে উন্নিত হয়। এই স্কুলের সুমান রয়েছে। এলাকাটিতে সবর, মুন্ডা এসমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষেরই অধিক বাস। এছাড়া অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকও রয়েছে। এই বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগে বিগত ২০১০-১১ সাল থেকেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রয়াসের কারনে কয়েক মাস বাদে বাদে ছাত্র-ছাত্রীদের মিড-ডে-মিলে মাংস-ভাত খাওয়ানো শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবেই তা চলতে থাকে। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে দু-এক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মাংস-ভাত খাওয়ানোর বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এতে অভিভাবক তথা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ নিজেদের সন্তোষের কথাও প্রকাশ করছেন। সন্তুষ্ট শিক্ষা দপ্তরও। এবিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন শিক্ষা বর্ষের শুরুতে পশ্চিম সিঙ্গিছড়া গভ: কলোনী উচ্চবুনিয়াদী বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগে মাংস-ভাত খাওয়ানোর বিষয়টি মিডিয়ার সামনে তোলে ধরা হয়। ২৩শে জানুয়ারী ও ২৬শে জানুয়ারীর মধ্যবর্তী দিন মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের মিড-ডে-মিলে মাংস-ভাত খাওয়ানো হয়। এক্ষেত্রে প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রয়াসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সিংহভাগ খরচই বহন করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাই, এমনটাই জানালেন বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সঞ্জিত দেবরায়। তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ে পরিকাঠামোজনিত কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে বিদ্যালয়ে নেই বাউন্ডারি ওয়াল, নেই পর্যাপ্ত খেলার মাঠ। রাজ্যে কিছু কিছু এসবি স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও এই স্কুলে নেই। অথচ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা সাংস্কৃতিক চর্চার দিক দিয়ে কোন ট্রেনিং ছাড়াই অনেকটা পারদর্শিতার সাথে বিদ্যালয়ের নানান অনুষ্ঠানে নাচ-গান, অঙ্কন ইত্যাদি করে থাকে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধূলার দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে। ‘স্টেট লেভেল স্পোর্টস মিট-২০১৬’তে গত শিক্ষাবর্ষের ৫ম শ্রেনীর দুই ছাত্র বিশাল সবর ও প্রণব নম:শূদ্র ব্লক, সাব-ডিভিশন এবং ডিস্টিক্ট মিটে ৮০০ মিটার দৌড়ে ধারাবাহিকভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। যদিও তারা স্টেট লেভেলে সফল হয়নি। কিন্তু বিদ্যালয়ের জন্য এটা কম বড় প্রাপ্তি ছিল না। যেখানে বিদ্যালয়ে নেই উপযুক্ত খেলার মাঠ সেখানে খেলাধূলায় অনেকটাই সাফল্য কুড়িয়ে নিতে পেরেছে বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা। আর এই সাফল্য লাভ সম্ভব হচ্ছে একমাত্র নিয়মিতভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মধ্য দিয়ে। ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত উপস্থিতির পেছনে নিয়মিত খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, বনভোজন সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গুরুত্ব সহকারে পাঠদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যাতিক্রমী কিছু উদ্যোগের ফলেই সম্ভব হচ্ছে। এই ধারা সর্বদা বজায় থাকবে বলেই জানালেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সঞ্জিত দেবরায়।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*