তিন দিনব্যাপী আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি মেলার সূচনা

cmগোপাল সিং, খোয়াই, ২৩ ফেব্রুয়ারী ৷৷ পূর্ব ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯শে ফেব্রুয়ারী দুপুর ২টায় উদ্বোধন হবার কথা ছিল অনুষ্ঠানের। কিন্তু অনুষ্ঠানের সময়সূচী নিয়ে উদাসীন আয়োজকরা অনুষ্ঠান শুরু করলেন বিকেলে। রবিবার ছুটির দিনে বেলা ১২টা থেকে খোয়াইয়ের বিভিন্ন স্কুলের কঁচিকাঁচা ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত করা হয় খোয়াই শ্রীনাথ বিদ্যানিকেতন মাঠে। সেই থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। ছাত্র-যুব সকলকেই প্রচন্ড অসুবিধার মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়। এরপর একে একে বিশাল র্যারলীতে করে উপজাতি ছাত্র-ছাত্রী, কিশোর, যুবক-যুবতী চিরাচরিত সাজে খোয়াই সরকারী দ্বাদশ শ্রেনী বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হয়। ভারত সরকারের উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় এবং ত্রিপুরা উপজাতি স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে রবিবার ১৯শে ফেব্রুয়ারী থেকে খোয়াই সরকারী দ্বাদশ শ্রেনী বিদ্যালয়ের মাঠেই শুরু হল তিন দিনব্যাপী আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি মেলা। রবিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে উপজাতি অংশের শিশু থেকে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীরা রাজ্যের ১৯টি জাতিগোষ্ঠীর চিরাচরিত পোষাকে খোয়াই শ্রীনাথ বিদ্যানিকেতন ময়দান থেকে সুসজ্জিত বিশাল র্যা লী করে খোয়াই সরকারী দ্বাদশ শ্রেনী বিদ্যালয়ের মাঠে একত্রিত হয়। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি মেলার শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজাতি কল্যান দপ্তরের মন্ত্রি অঘোর দেববর্মা, উপজাতি স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের সদস্য রাধাচরন দেববর্মা, উপজাতি স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. রঞ্জিত দেববর্মা, বিধায়কদ্বয় বিশ্বজিৎ দত্ত ও পদ্মকুমার দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।
এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কচিকাচা ছাত্র-ছাত্রীদের এই হাল দেখে বেজায় চটলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাষন রাখলেন মাত্র ৯ মিনিট। বললেন, ‘সংস্কৃতি মানেই হচ্ছে জীবন ধারা। সামাজিক যে ধারা, ভাবনা-চিন্তা, এগুলোর প্রতিফলন আমরা নাচ-গান-নাটক-বাদ্যযন্ত্র সবকিছুর মধ্য দিয়ে ঘটাবার চেষ্টা করছি। এর মধ্যে দু:খ-বেদনা যেমন আছে তেমিন ভবিষ্যতের ভাবনার বিষয়ও আছে। সব নিয়েই সাংস্কৃতিক ধারাই হচ্ছে সভ্যতার বিকাশ এবং অগ্রগতির মাধ্যম। শিক্ষা-সংষ্কৃতিকে বাদ দিয়ে অসম্পূর্ণ। শিক্ষা এবং সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করে যমজ ভাই এবং বোন এর মতো। সেদিক থেকে সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে জীবনকে চিন্তা করা, সমাজ-সভ্যতার অগ্রগতির কথা ভাবা অসম্ভব। রবিবার খোয়াই সরকারী দ্বাদশ শ্রেনী বিদ্যালয়ের মাঠে তিন দিনব্যাপী আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি মেলার উদ্বোধন করে এমনই অভিমত ব্যক্ত করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। পাশাপাশি বললেন, অতীত এবং বর্তমানের মিশ্রনের মধ্য দিয়েই আমাদের ভবিষ্যত, আমাদের ভাবি প্রজন্মের পথ চলার রাস্তা সুগম করার চেষ্টা করতে হবে। রবিবার আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিগন বিভিন্ন স্টলগুলি পরদর্শন করেন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব পোষাকে সজ্জিত জীবন্ত মডেল ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলির প্রদর্শন স্বচক্ষে পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য প্রতিদিন সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে মেলা প্রাঙ্গনে। আদিবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতি মেলা চলবে আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। অন্তিম দিনে উপস্থিত থাকাবেন মন্ত্রি ভানুলাল সাহা, সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধূরী, মন্ত্রি খগেন্দ্র জমাতিয়া সহ অন্যান্যরা। মেলার দ্বিতীয় দিন উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রি নরেশ জমাতিয়া। তবে মেলায় বিভিন্ন স্টল দেখে মোটেই সন্তুস্ট হতে পারেননি খোয়াইবাসী। হাতেগুনা কয়েকটি স্টল দেখে সবাই অবাক। যেখানে এত বড়মাপের অনুষ্ঠান সেখানে নামমাত্র স্টল অনেকটা বেমানান দেখায় বলে অভিমত প্রকাশ করেন জনগন।

 

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*