গোপাল সিং, খোয়াই, ১৮ মে ৷৷ খোয়াই মহকুমার পথচলা শুরু প্রায় ১২০ বছর। সরকারী তথ্য এবং বর্তমান মহকুমা শাসকের অফিসের নথি অনুযায়ী ১৯১০ইং থেকেই মহকুমার যাত্রা শুরু। তবে এখন খোয়াই শুধু মহকুমা নয়, জেলাও বটে। কিন্তু জেলা হবার পরও অপরিবর্তিত রয়েছে খোয়াই শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোর দৈন্যদশা। উদাহরনস্বরূপ খোয়াইবাসী যে তথ্য তুলে ধরেছেন তা নিতান্তই যুক্তিগ্রাহ্য। শহরের ব্যস্ততম এলাকা যেমন খোয়াই জেলা হাসপাতাল থেকে মহারাজগঞ্জ বাজার পর্যন্ত মাত্র ৩ কিমি রাস্তার পাশে কি আছে তার একটা চিত্র তুলে ধরলেন জনসাধারন :
১। জেলা হাসপাতাল
২। স্টেট ব্যাঙ্ক (পাশেই নার্সারী স্কুল)
৩। নবনির্মিত অত্যাধুনিক খোয়াই টাউন হল
৪। পুর পরিষদ কার্য্যালয়
৫। সিপিআই(এম)পার্টি অফিস এবং এর ডানে-বামে শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের ৩টি অফিস
৬। শ্রীনাথ বিদ্যানিকেতন স্কুল
৭। ইংরেজী মাধ্যম দ্বাদশ স্কুল
৮। সরকারী বালিকা বিদ্যালয়
৯। প্রধান ডাকঘর
১০। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা কেন্দ্র
১১। খোয়াই থানা
১২। বাস-স্ট্যান্ড
১৩। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক (মূল শাখা)
১৪। অটো-স্ট্যান্ড এবং
১৫। মহারাজগঞ্জ বাজার।
ব্যস্ততম রাস্তার সংজ্ঞার সাথে রাস্তার পরিধী কিন্তু মোটেই খাপ খাচ্ছে না। কারন রাস্তা ৫ মিটার পাশ। এরমধ্যে সাড়ে ৩ মিটার পিচ ঢালাই বাদ দিলে বাকি ফুটপাত বৈদ্যুতিক খুঁটি, সাইনবোর্ড, সাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহন এবং নির্মান সামগ্রী দিয়ে আটকানো। এই সাড়ে ৩ মিটার রাস্তা দিয়েই বাস-ট্রাক, প্রাইভেট গাড়ী, কমলপুর-আমবাসা থেকে যাত্রীবাহী গাড়ী, ছাত্র-ছাত্রী, বাই-সাইকেল সহ পথ চলতি জনসাধারণ এভাবেই জীবন বাজী রেখে প্রতিদিন খোয়াই শহরের ব্যস্ততম রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করছেন। বর্তমান খোয়াই শহরের ৯৮ শতাংশ রাস্তার পাশের ফুটপাতই দখলে রয়েছে ব্যবসায়ীদের। মালামাল এবং বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং তো রয়েছেই সেই সাথে রয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। খোয়াই টাউন হল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো সাইকেল, বাইক কিংবা অন্যান্য যানবাহনও পথ চলতি মানুষের ক্ষেত্রে এবং যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে অসুবিধার কারন হয়ে উঠে। সেই সঙ্গে বৈদ্যুতক খুঁটি এবং জিআই পাইপ দ্বারা অবৈজ্ঞানিকভাবে আর্থিং সব মিলিয়ে খোয়াই রাস্তা-ঘাটের অবৈজ্ঞানিক চেহরা ফুটে উঠলেও কোন দপ্তরেরই মাথা ব্যাথা নেই। কারন ফুটপাত দিয়ে কোন বড় আমলা বা সরকারের কোন ভিআইপিরা চলাচল করেন না। পঙ্গু হলে গরীব-শ্রমিক-ছাত্র-ছাত্রীরা হবে। উনাদের কি? যদিও পুর পরিষদ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয় এবং মাইক যোগে প্রচার করে দায়বদ্ধতা পালন করার মধ্য দিয়ে ভাল ট্যাক্স আদায় হয়, এতেই উনারা খুশি। কি হবে ফুটপাত মুক্ত করে?
জনগণের মতে এ বিষয়ে প্রশাসনেরই কোনপ্রকার হেলদুল নেই। কোন ভূমিকা নেই সরকার, সংগঠন বা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিরও। প্রশাসনের ঘুম কবে ভাঙবে, নাকি আরও ১২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে জনগণকে – প্রশ্ন খোয়াইবাসীর।
