১৯টি সড়ক ও গলিপথ অবরোধ করল বিভিন্ন গাড়ী চালকরা

গোপাল সিং, খোয়াই, ১১ জুন ৷৷ শনিবার খোয়াই শহরে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের ১৯টি সড়ক ও গলিপথগুলো অবরোধ করল বিভিন্ন গাড়ী চালকরা। কৈলাসহর, কমলপুর, তেলিয়ামুড়া সহ বিভিন্ন স্থানের বাড়ী যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত বন্ধ করে দেয় যান চালকরা। এধরনের আন্দোলন মেনে নিতে পারেনি খোয়াইয়ের জনগণ। এই ঘটনা প্রশাসন এবং শ্রমিক সংগঠনের দূর্বলতার বহি:প্রকাশ বলে মনে করছেন জনসাধারন। শ্রমিক সংগঠনের খোয়াই জেলা সম্পাদক নির্মল বিশ্বাসের সাথে জাগরণ পত্রিকার খোয়াই প্রতিনিধি টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এধরনের রাস্তা অবরোধকে সিআইটিইউ সমর্থন করে না। তবে অধিক পরিমানে গাড়ীর চালকদের জরিমানা করা হয় তাও মেনে নেওয়া যায় না বলেই অভিমত প্রকাশ করেন তিনি। উনাকে প্রশ্ন করা হয় যে রাস্তা অবরোধ প্রত্যাহার করতে ব্যার্থ শ্রমিক সংগঠন। তবে কি ধরা যায় যে শ্রমিক সংগঠন ব্যার্থ? কোন সরাসরি উত্তর না দিলেও তিনি ঘুরিয়ে মেনে নেন যে, বিরোধী শিবিরের একটি চক্রান্ত কাজ করছে। তবে এই অনুমানের পেছনে যে সত্যতা রয়েছে তা মুলত জানা যায় বিরোধী দলের কর্মীদের দ্বারা ঘটনার একদিন আগেই মিডিয়ার কাছে রাস্তা অবরোধের বার্তা পৌছে যাবার মধ্য দিয়ে।
এদিকে শনিবার বসেছিল খোয়াই লোক আদালত। কয়েকশত চালক আজ উপস্থিত ছিল এবং জরিমানা বাবদ ১০% দিতে রাজী হয় তারা। যদিও লোক আদালত তা মানতে নারাজ। বরং লোক আদালত থেকে ৬০% জরিমানা মিটিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়। এরপরই চালকরা তা না মেনে আন্দোলনে শামিল হয়। মহকুমা শাসক ও পুলিশ প্রশাসন বারবার অনুরোধ করেন যে আগামী ১৯ জুন আবার আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কোন সুরহা করা যায় কিনা তা দেখা হবে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানতে নারাজ। এরপরই খোয়াই শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বরা ময়ধানে নামেন। তারপর আংশিক শ্রমিক অবরোধ থেকে সরে দাঁড়ালেও বেশীরভাগ শ্রমিক আন্দোলন অব্যহত রাখে। অথচ আচমকা এই রাস্তা অবরোধ আন্দোলনের ফলে দূরপাল্লার যাত্রীসহ প্রবীন নাগরিক এবং শিশুরা পর্যন্ত রেহাই পায়নি। শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু খোয়াইতে ক্রমাগত যে কোন ইস্যুতে রাস্তা অবরোধ একটা ট্রেডিশনে পরিণত হয়ে যাওয়াটাকে ভাল চোখে দেখছেন না খোয়াইবাসী।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*