ইসরাইলি বর্বরতা সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে

1405441050.

ইসরাইল : বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও ধিক্কার সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। এবারের এই ইসরাইলি হামলার নৃশংসতা ২০১২ সালের বর্বরতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০১২ সালে ৮ দিনের যুদ্ধে গাজায় মারা গিয়েছিল ১৭৭ জন ফিলিস্তিনি। এবার ৭ দিনেই নিহতের এই সংখ্যা অতিক্রম করেছে।
পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ায় ইসরাইল স্থল অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু তাদের বর্বরতা প্রদর্শনের বিরতি সময়িক সময়ের কৌশলী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে জানা গেছে, গাজা এলাকায় স্থল অভিযানে গিয়ে ইসরাইলের সেনারা ব্যাপকভাবে আহত হয়েছে। সে কারণে ইহুদিবাদী ইসরাইল আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এদিকে সংঘাত বন্ধে মিসরের দেয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণে সম্মত হয়েছে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা।
গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরাইলের হামলায় দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সহস্রাধিক। তবে এ পর্যন্ত ইসরাইলের কেউ নিহত হয়নি। কয়েকজন আহত হওয়ার দাবি করেছে তেলআবিব। তবে অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। এ প্রসঙ্গে হামাসের অন্যতম মুখপাত্র ফাওজি বারহুম বলেছেন, প্রস্তাবিত অস্ত্রবিরতি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় আগে যুদ্ধবিরতি করে পরে আলোচনা করার কোনো অর্থ হয় না। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন স্তরের একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এতে ১২ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, যুদ্ধবিরতির পর বর্ডার ক্রসিংগুলো খুলে দেয়া হবে এবং দু’পক্ষ রাজধানী কায়রোয় আলোচনায় বসবে। মিসরের দেয়া প্রস্তাবটি নিয়ে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা আলোচনায় বসে অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দেয়। যদিও তেলআবিব যুদ্ধবিরতি বিষয়ে জাতিসংঘের আহ্বান ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
অপর এক খবরে বলা হয়, অবিলম্বে ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ইইউ বৈদেশিক নীতিবিষয়ক মুখপাত্র মাজা কোসিযানসিক সাংবাদিকদের জানান, যারা মধ্যপ্রাচ্যের লড়াইয়ে যুক্ত তারা যেন শিগগিরই ওই অঞ্চলের গণহত্যা থেকে বিরত থাকে। ইইউ জানায়, আমরা সব পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে করে হতাহত এড়ানো এবং পরিবেশকে শান্ত করা যায়। ইইউ বৈদেশিক নীতিবিষয়ক মুখপাত্র মাজা কোসিযানসিক সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। গাজায় ইসরায়েলের বর্বরতা নিয়ে জাতিসংঘের ভূমিকায় ধিক্কার জানিয়েছে সউদি আরব। জাতিসংঘের ওআইসি গ্রুপের প্রধান এবং সউদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি আল মুয়াল্লিমি জানিয়েছেন, গাজায় ইসরাইলের হামলায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি অপ্রত্যাশিত। তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের বিবৃতিতে ফিলিস্তিনে শত শত মানুষ হত্যার কোন প্রতিবাদই জানানো হয়নি। ওআইসি থেকে ফিলিস্তিনে হামলার প্রতিবাদে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এর আগের খবরে বলা হয়, মিসরের দেয়া একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে ইসরাইল এবং হামাস উভয় পক্ষই ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সপ্তাহব্যাপী সহিংসতার পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে এমন আশা করা হচ্ছিল। দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে কয়েকদফা বৈঠকের পর মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ অনুযায়ী শিগিগরই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি নিয়ে যখন কথাবার্তা চলছে তখনো ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনে তাদের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। হামাসও ইসরাইলি সীমান্তের অভ্যন্তরে রকেট ছুড়ছে। গাজায় বিরামহীন বিমান হামলার কারণে ফিলিস্তিনিরা এখনো আতঙ্কের মাঝে রয়েছেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Comments are closed.