জঙ্গি হামলা: কাঁদছে পাকিস্তান

pksপাকিস্তান, ১৭ ডিসেম্বর ।। পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এক জঙ্গি হামলায় মঙ্গলবার পেশোয়ারের সেনাবাহিনীর একটি বিদ্যালয়ে ১৪০ শিশুসহ ১৬০ জন নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন ১২২ জন। এ ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পুরো পাকিস্তান। বুধবার নিহত শিশুদের কয়েকজনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১৩২ স্কুলশিক্ষার্থী। হামলাকারী ৯ জঙ্গিও নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। আহতের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিরাপত্তা বাহিনী জিম্মি শিশুদের উদ্ধার করে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিবাদে সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায় উঠে আসছে একের পর এক গা ছমছম করা ঘটনার বিবরণ। একের পর এক ক্লাসরুমে ছুটে গিয়ে কীভাবে জঙ্গিরা শিশুদের নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে; উঠে এসেছে এর নির্মম দৃশ্যপট। ঘটনার সময় অবিরাম গুলি আর বিস্ফোরণের কানফাটা শব্দে স্কুল ভবন ও আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠছিল বলেও জানায় তারা।

পেশোয়ারের বার্সাক রোডের এ স্কুলটিতে ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা পড়াশুনা করত। পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশব্যাপী এ ধরনের ১৪৬টি স্কুল পরিচালনা করে। স্কুলটিতে সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীরাও শিক্ষকতা করেন।

ডন অনলাইন জানিয়েছে, সকালে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ৫-৬ জন বন্দুকধারী সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ‘আর্মি পাবলিক স্কুলে’ প্রবেশ করে এলোপাতড়ি গুলি চালায়।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। টিটিপির মুখপাত্র মোহাম্মদ খোরাসানি এ হামলাকে সম্প্রতি উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানের প্রতিশোধ বলে উল্লেখ করেছেন।

নবম গ্রেডের শিক্ষার্থী কাসেম তার প্রাণসংহারী এই অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনায় বলেন, ‘আমরা একটা হলে বসে ছিলাম। একজন কর্নেল আমাদের পাঠ দিচ্ছিলেন। তখনই আমাদের পেছনদিকে গুলির শব্দ শুনলাম। গুলির শব্দ ক্রমে কাছে আসতে লাগল। কয়েক পলক পরই আমাদের পেছনের দরজাটা তাদের লাথিতে উল্টে পড়ল। দু’জন জঙ্গি এলোপাতাড়ি গুলি করতে লাগল।

কলেজ প্রাঙ্গণে প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।’ শেষ যে দৃশ্যটা কাসেম মনে করতে পারে, সেটা খুবই ভয়ঙ্কর। মাটির ওপর অনেক মানুষ আর অসংখ্য শিশু মৃত পড়ে আছে। প্রাণে বেঁচে গেলেও হাঁটুতে ভীষণ ব্যথা পেয়েছে কাসেম।

সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রবেশের প্রায় আধা ঘণ্টা পরই সেখানে পাকিস্তানের সেনা সদস্যরা পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

মার্কিন পররাষ্ট্রামন্ত্রী জন কেরি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে টেলিফোনে এ ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নওয়াজ শরীফকে বলেছেন, এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের জনগণের পাশেই আছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*