সৌরভের ভূমিকায় ভারতীয় রাজনীতিতে তোলপাড়

souএর আগে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন সরকারি অফিস খোলা রেখে স্বচ্ছ ভারত অভিযানে সামিল হতে তার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরকেই চিঠি দিয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার৷

সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘এ সবই নরেন্দ্র মোদীর নাটক৷’ সেই নরেন্দ্র মোদীই স্বচ্ছ ভারত অভিযানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ মনোনীত করার পর সুব্রতবাবু এখন বলছেন, ‘এটা সরকারি কর্মসূচি৷ তাতে সৌরভ সামিল হতেই পারেন৷’ তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযানে যোগদান সৌরভের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত৷ আমি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না৷’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে এই অভিযানে সামিল করে মোদী যে মোক্ষম চাল দিয়েছেন তা তৃণমূলের ওই দুই প্রবীণ নেতা ও মন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট৷ সৌরভ ঘোষণা করেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দেবেন৷

প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের এই ঘোষণাতেই স্বচ্ছ ভারত অভিযান নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব আক্রমণের ধার কমাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত৷ বিজেপি সূত্রের খবর, মোদীর এই ঘোষণাকে কাজে লাগাতে তারা নানা অঙ্ক কষতে শুরু করেছে৷ বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব মনে করছে, সৌরভ স্বচ্ছ ভারত অভিযানে সামিল হওয়ার পর এ রাজ্যে ক্রীড়া জগত্‍ এবং টলিউডের মমতা শিবিরে ফাটল ধরতে পারে৷ কারণ, এই কর্মসূচি এবং সৌরভের গ্রহণযোগ্যতা৷ সৌরভের ডাকে নাগরিক সমাজ যত এই অভিযানে সামিল হবে রাজনৈতিক ভাবে ততই বিড়ম্বনা বাড়বে তৃণমূলের৷

সরকারি ভাবে অবশ্য বিজেপি স্বচ্ছ ভারত অভিযান এবং সৌরভের অংশগ্রহণের সঙ্গে দলকে জড়াতে চাইছে না৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার বক্তব্য, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান ভারত সরকারের কর্মসূচি৷ প্রধানমন্ত্রী সৌরভকে ওই কর্মসূচির প্রচারে সামিল হতে অনুরোধ করেছেন৷ এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই৷’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচির গুরুত্ব মাথায় রেখে দলগত ভাবেও আমরা স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছি৷’

অস্ট্রেলিয়া থেকে ১২ জানুয়ারি কলকাতায় ফেরার কথা সৌরভের৷ তার পরই স্বচ্ছ ভারত নিয়ে কাজ শুরু করবেন তিনি৷ এর সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক না থাকলেও রাহুলবাবুরা চান, দেশের অন্যত্র প্রচারের পাশাপাশি এ রাজ্যে গঙ্গা-বাঁচাও অভিযানে সৌরভ বেশি সময় দিক৷ বারাণসীতে ‘নমামি-গঙ্গে’ কর্মসূচি নিয়ে জোর কদমে নেমে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ রবিবার রাহুলবাবু বলেন, ‘আমরা আশা করব এ রাজ্যে এই কাজে সৌরভ বেশি সময় দেবেন৷’

সূত্রের খবর, মোদীর কর্মসূচিকে হাতিয়ার করে এ রাজ্যে বিজেপি জনভিত্তি বাড়াতে চাইছে৷ দল তো বটেই বিভিন্ন ক্লাব, গণসংগঠনের নামেও শনি-রবিবার এই অভিযান চলছে৷ রাজনীতির প্রত্যক্ষ যোগ ছাড়াই তাতে তাতে প্রচুর মানুষ জড়ো হচ্ছেন৷

কয়েকটি জেলায় এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধও হয়েছে বিজেপির৷ রাহুলবাবুর দাবি, কয়েকটি জেলায় সরকারি হাসপাতাল আবর্জনামুক্ত করতে চেয়ে তারা চিঠি দিলেও কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেননি৷

তবে কয়েকটি জায়গায় এই চিঠির জেরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জঞ্জাল সাফাই করেছেন৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, রাজ্য সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেস স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মুখে বিরোধিতা করলেও বিজেপির চাপের মুখে তারা এই কর্মসূচিকে উপেক্ষা করতে পারছে না৷ 

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*