খোঁজ মিলল আরেক পৃথিবীর

earthতথ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক ।। আমাদের এ পৃথিবীর বাইরেও আরো পৃথিবী আছে। সেসব পৃথিবী এত দূরে যে আমাদের পৃথিবী থেকে তা কেবল কল্পনাই করা যায়, দেখা আর যায় না। এসব পৃথিবীর পরিবেশ ও অবস্থানগত বৈশিষ্ট্য আমাদের পৃথিবীর মতোই। এ পৃথিবীকে বলা যেতে পারে এলিয়েন পৃথিবী।

নাসার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমনই একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। নাসার স্পেস টেলিস্কোপ কেপলারের মাধ্যমে নতুন আটটি গ্রহকে অনেকাংশেই পৃথিবীর অনুরূপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ আটটির মধ্যে কেবল তিনটিতেই বাসযোগ্য অবস্থা থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। তবে তারা কেবল একটি গ্রহ নিয়েই পরীক্ষা চালিয়েছেন।

পৃথিবীর মতো দেখতে এ গ্রহটির নাম দেয়া হয়েছে কেপলার ৪৩৮ বি। এ সন্ধানলাভের প্রতিবেদন আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে কেপলার ১৮৬ এফ নামে নতুন একটি গ্রহের সন্ধান পায় নাসা। তখন বলা হয়েছিল কেপলার ১৮৬ এফ পৃথিবীর যমজ গ্রহের মতোই।

এখন বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন কেপলার ১৮৬ এফের চেয়ে কেপলার ৪৩৮ বি আরো বেশি পৃথিবীর মতো। নতুন এ গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে ১২ গুণ বড়। তবে এটি পৃথিবী সূর্য থেকে যে পরিমাণ তাপ শোষণ করে তার চেয়ে শতকরা চল্লিশ ভাগ বেশি তাপ শোষণ করে। এ কারণে এর তাপমাত্রা পৃথিবী থেকে বেশি।

ক্যালিফোর্নিয়ার সেটি (সার্চ ফর এক্সট্রা টেরিস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. ডাফ কাল্ডওয়েল গণমাধ্যমকে জানান, গ্রহটি একটি লাল বামনের (সূর্যের চেয়ে ছোট, অপেক্ষাকৃত কম উত্তপ্ত তারা) চারদিকে ঘোরে। সুতরাং গ্রহটিকে কিছুটা লাল দেখায়।

নাসা নতুন করে যে আটটি পৃথিবীর মতো গ্রহের সন্ধান পেয়েছে তার মধ্যে কেপলার ৪৩৮ বিকেই সবচেয়ে বেশি বাসযোগ্য বা প্রাণের অস্তিত্বের জন্য উপযুক্ত গ্রহ বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। এর বিপরীতে পাল্টা মতও রয়েছে। কেপলারের বিজ্ঞানী ফারগাল মুলালি বলেন, আরও পর্যবেক্ষণ করার পর হয়ত দেখা যাবে এই গ্রহগুলো আদৌ কোনো গ্রহই নয়।

অন্যদিকে ড. কাল্ডওয়েল বলেন, কেপলার টেলিস্কোপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্য আরও কিছু পর্যালোচনার পর এখনো বলা যাচ্ছে না কেপলার ৪৩৮ বিতে সমুদ্র, মাছ বা গাছপালা আছে কিনা। -বিবিসি

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*