আন্তর্জাতিক ডেস্নক ।। ফ্রান্স এখন আতঙ্কের নগরী। শার্লি হেবদোর হামলার ঘটনাসহ দেশটিতে তিনদিনের জঙ্গি আতঙ্কের পর সন্ত্রাস মোকাবেলায় এগিয়ে এলেন বিশ্বনেতারা। মানবতার বিরোধী এ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রদর্শন করে এক র্যালিতে যোগ দিতে প্যারিসে জমা হতে শুরু করেছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ।
এ তিনদিনে সন্ত্রাসী হামলায় ফ্রান্সে ১৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর মাঝে প্যারিসের আলোচিত শার্লি হেবদো ম্যাগাজিনেরই সম্পাদকসহ নিহত হয়েছেন ১২ জন।
৪০ জনের মতো বিশ্বনেতা রোববার র্যালিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে আছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল, ফিলিস্তিন নেতা মাহমুদ আব্বাস এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জমিন নেতানিয়াহু।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ৯ জানুয়ারি তার ফেসবুকে লিখেছেন, প্যারিসে রোববার অনুষ্ঠিতব্য ইউনিটি র্যালিতে অংশ নিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওঁলাদের আমন্ত্রণ আমি গ্রহণ করেছি।
এছাড়া ৭ লাখের মতো মানুষ এ র্যালিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। প্যারিস জানিয়েছে, ২ হাজার পুলিশ এবং ১ হাজার ৩শ’ ৫০ সেনাসদস্য এ র্যালিতে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কাযেনভ জানিয়েছেন, আসছে সপ্তাহে ফ্রান্স সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে। রোববার সকালেই তিনি ইউরোপের সকল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করতে এক বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে।
এ বৈঠকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে’ও যোগদান করবেন বলে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। কাযেনভ জানিয়েছেন, এদিন নিরাপত্তার জন্য ভবনগুলোর ছাদে স্নাইপার রাইফেলও থাকবে।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্বজনরা। আর র্যা লিটি শুরু হবে প্লেস ডে লা রিপাবলিকের সামনে থেকে স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় (গ্রীনিচ সময় ১৪টায়)। র্যালির আগে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওঁলাদ।
প্রসঙ্গত, বুধবার ফ্রান্সের স্যাটায়ার ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোর অফিসে হামলা চালিয়ে এর সম্পাদকসহ ১২ জনকে হত্যা করে শেরিফ কৌয়াশি ও সাইদ কৌয়াশি নামের দুই ভাই। এঘটনায় নিহত হন ম্যাগাজিনটির সম্পাদক এবং কার্টুনিস্ট স্টিফেন শারবোনিয়ের (চার্লি) (৪৭)।
আরো নিহত হন, কার্টুনিস্ট জিন (৭৬), বারনার্ড টিগনাস (৫৭), জর্জ ওলিনস্কি (৮০) এবং ফিলিপ হোনোরে (৭৩), অর্থনীতিবিদ এবং নিয়মিত ম্যাগাজিন কলামিস্ট বারনার্ড মারিস (৬৮) যিনি পাঠক সমাজে আঙ্কেল বারনার্ড নামে পরিচিত, প্রুফ রিডার মুস্তফা ওরাড, কলামিস্ট ইসা সায়াত (নারী), অতিথি মাইকেল রেনাউড যিনি ক্ল্যারমোন্ট শহর থকে এসেছিলেন, কেয়ারটেকার ফ্রেডারিক বইস্যুঁ (৪২) এবং পুলিশ অফিসার ফ্র্যাঙ্ক ব্রিনসোলারো এবং আহমেদ মেরাবেত (৪২)।
এদের মাঝে ফ্র্যাঙ্ক ব্রিনসোলারো ম্যাগাজিনটির সম্পাদক স্টিফেনের দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ঘটনার পরপরই ওই দুই সহোদর পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পরদিন আহমেদ কৌলাবেলি নামের আরেক বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন পুলিশের এক মহিলা কর্মকর্তা।
এদিকে শার্লি হেবদোর অফিসে হামলার ঘটনার পরপরই হত্যাকারীদের খুঁজতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অবশেষে শুক্রবার কৌলাবেলিসহ ওই দুই সহোদর পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। তবে পুলিশ এখনো কৌলাবেলির বান্ধবী হায়াত বৌমেদেইনেকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।
তুরস্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের প্রথমদিকে হায়াত খুব সম্ভবত সিরিয়া হয়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করেছে।
