পুলিশের নেশা বিরোধী অভিযান, আটক ব্রাউন সুগার, পলাতক গাড়ির চালক

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৯ জুন || কল্যাণপুর থানার পুলিশের নেশা বিরোধী অভিযানের সাফল্য। বেশ কিছু রাস্তা ধাওয়া করে ব্রাউন সুগার সহ গাড়ি আটক করতে সক্ষম হয় কল্যাণপুর থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় গাড়ির চালক। জানা গেছে, পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল তেলিয়ামুড়া ঘিলাতলী সড়ক দিয়ে ব্রাউন সুগার পাচার হচ্ছে। এই খবরে পুলিশ নির্দিষ্টভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় উৎপেতে বসেছিল। কিছুক্ষণ পর যখন যথারীতি টি আর ০৬ এ ০২১০ নম্বরের গাড়িটি আসছিল, তখন পুলিশ গাড়িটি পিছু ধাওয়া করে। পুলিশকে দেখেই গাড়ির চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়, একসময় গাড়ির গতি মুখ পরিবর্তন করে ঘিলাতলী সেক্টর কার্যালয়ের সামনে গাড়িটা ঢুকিয়ে দিয়ে। গাড়ি লক করে চালক পালিয়ে যায়। পুলিশও যথারীতি গাড়ির চালক এর পিছনে ধাওয়া করে বেশ কিছুক্ষণ ধাওয়া করার পর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গাড়ির চালক খোয়াই নদী অতিক্রম করে পালিয়ে যায় বলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন কল্যাণপুর থানার এসআই প্রীতম চাকমা।
এদিকে সন্ধ্যা রাতে গ্রামীণ এলাকায় ব্রাউন সুগার উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। উৎসুক জনতার ভিড়ে ছয়লাপ হয়ে যায় চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকা। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ অবাক ব্রাউন সুগার উদ্ধারের ঘটনায়।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন বহুদিন আগেই ‘নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা ডট কম’ এ সংবাদ পরিবেশিত হয়েছিল যে ঘিলাতলী তেলিয়ামুড়া রাস্তাকে করিডর করে প্রায় সময়ই নেশা সামগ্রী পাচার হচ্ছে। এবার পুলিশের এই সাফল্য প্রমাণ করলো এই আগাম সংবাদ বস্তুতপক্ষে সত্যের উপর ভিত্তি করে পরিবেশিত হয়েছিল। ব্রাউন সুগার উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সোনা চরণ জমাতিয়া এর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী।
একান্ত সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে কল্যাণপুর থানার এস আই প্রীতম চাকমা জানান ব্রাউন সুগার উদ্ধার করতে পারলেও চালক পলাতক। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার ডাক দিচ্ছেন, স্বপ্ন দেখাচ্ছেন রাজ্যবাসীকে সেখানে গ্রামীণ এলাকার মধ্যে ব্রাউন সুগার এর মত উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন নেশা সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো মুখ্যমন্ত্রীর এই নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার স্বপ্নের সামনে একটা বড় প্রশ্ন চিহ্ন বলে একাংশের অভিমত। এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীরা আমাদের প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে গিয়ে জানালেন, ব্রাউন সুগার কি জিনিস তারা জানেন না। ব্রাউন সুগার কি জিনিস তারা কোনদিন দেখেননি। রীতিমতো তারা কিন্তু উদ্বিগ্ন এই গ্রামীণ এলাকার মধ্যে কিভাবে নেশা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। সে যাই হোক গ্রামীণ এলাকায় ব্রাউন সুগার উদ্ধারের ঘটনায় একদিকে যেমন গ্রামীণ ত্রিপুরায় নেশা সাম্রাজ্যের বিস্তার এর প্রমাণ বহন করছে, অন্যদিকে পুলিশকে আঙ্গুল দিয়ে নির্দেশ করছে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এলাকায় এলাকায় এমনকি গ্রামীণ এলাকার মধ্যেও নেশা সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটছে। আটককৃত ব্রাউন সুগার এর বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় ২ লক্ষ (ছোট দুটি প্যাকেট) টাকা বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*