নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বিরজিৎ সিনহার একান্ত সাক্ষাৎকার

কথায় কথায় ডেস্ক ।।নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা”-এর “কথায় কথায়” ডেস্কে প্রদেশ কংগ্রেসের নব নিযুক্ত সভাপতি বিরজিৎ সিনহার একান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়ার জোর চাপাচাপি শুরু করেছিল ছোটভাই শান্তনু। অগত্যা ক’দিন আগে ওর মোবাইল থেকেই ফোন করলাম রাজ্য কংগ্রেস সভাপতিকে, প্রাথমিক পরিচয় আর সৌজন্যের দু’চার কথার শেষে বললাম – স্যার আমাদের নিউজ পোর্টালের জন্য একটু সময় দেবেন? মোবাইলের অন্যপ্রান্ত থেকে শ্রী সিনহাই বাতলে দিলেন সোজা পথ – মোবাইলেই প্রশ্ন আর উত্তরে জেনে নিলাম কংগ্রেসের নতুন সভাপতি বিরজিৎ সিনহার অন্তরের রাজনীতির আগামীর রোডম্যাপ। সরাসরি উত্তর না দিলেও প্রকারন্তরে এমন কিছু আভাস মিলেছে যেখানে কঠিন সময়, দলীয় বিবাদ ছেড়ে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকার গ্রহনে দেবজীৎ চক্রবর্তী।
birjit

তুলে ধরা হচ্ছে “কথায় কথায়” ডেস্কে “নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা”-এর সঙ্গে নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বিরজিৎ সিনহার একান্ত সাক্ষাৎকার।

প্রশ্ন :-  কঠিন সময়ে দায়িত্ব পেয়ে কেমন লাগছে?

উত্তরে অন্যপ্রান্তে মোবাইলে শ্রী সিনহা :- খুশী কিংবা আনন্দের ব্যাপার নয়, তবে কংগ্রেস হাইকমান্ড আমার উপর যে আস্থা আর বিশ্বাস রেখেছে তার জন্য সোনিয়াজী কে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

প্রশ্ন :-  কংগ্রেসের মতানৈক্য নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে

উত্তর :- আসলে কংগ্রেস চিরকাল গণতন্ত্রে শ্রদ্ধাশীল – ঠিক তেমনি দলেও রয়েছে গণতান্ত্রিক পন্থা পদ্ধতি। মত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার আছে কংগ্রেসে।

প্রশ্ন :-  মতানৈক্য দূর করতে পারবেন?

উত্তর :- সকলের সঙ্গে কথা বলে পথ বের করব, কংগ্রেসের গণতান্ত্রিক আদর্শের কথায় টেনে আনেন ক্ষমতাসীন দলের কথা, বলেন দীর্ঘ বাম শাসনে গনতন্ত্র একদলীয় শাসনে পরিনত হয়েছে। শ্রী সিনহা বলেন রাজ্য কংগ্রেস শুরু করবে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই।

প্রশ্ন :-  দলের সব অংশের সাপোর্ট পাবেন?

সরাসরি উত্তর দেন নি, প্রতীয়মান হয়েছে দলে ভাগাভাগির কথা প্রকাশ্যে না এনে পরিস্থিতি বিচার করে পদক্ষেপের পন্থা নেবেন, উত্তরে জানান –
উত্তর :- একা নয়, আমি সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই, দরকারে মানুষের কাছে যাব, মানুষের মতামত নিয়ে লড়াইয়ের পরিকল্পনা নেব, সাধারন কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেব।

প্রশ্ন :- সাধারন কর্মীদের কথা যেহেতু বললেন একটা প্রশ্ন – আপনার মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নীচুতলার কংগ্রেস কর্মীদের দূরত্ব কি ঘুচবে?


উত্তর :- ত্রিপুরার রাজনীতির সঙ্গে আমি দীর্ঘ সময় যুক্ত আছি, আপনাদের বলি – কংগ্রেস সভাপতির দরজা দিনরাত অবারিত থাকবে দলের সর্বস্তরের কর্মীদের জন্য, খোলা থাকবে সাধারন মানুষের জন্য।

প্রশ্ন :-  নতুন বছরে সভাপতির পদ প্রাপ্তিকে কি সেরা উপহার বলে ভাবছেন?

উত্তর :- না, কংগ্রেস হাইকমান্ড যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন তার প্রতিদান দিতে জান লড়িয়ে দেব।

প্রশ্ন :-  দেশজুড়ে কঠিন সময়ে এই রাজ্যে এখনো যারা কংগ্রেস করছে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?

উত্তর :- এখনো যারা কংগ্রেস দলের আদর্শ আর নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল সেই সব কর্মীদের বলব – গনতন্ত্র, ধর্ম নিরপক্ষতা আর ঐক্যের বার্তা নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষে রাজ্যজুড়ে প্রচারে অবতীর্ণ হতে। আমি নিজেও কংগ্রেসের একজন সাধারন সৈনিক হিসেবে ভাবী।

প্রশ্ন :-  বিভিন্ন কারনে দলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে যারা দল ছেড়েছেন তাদের কি ঘরে ফিরে আসার আহ্বান জানাবেন?

উত্তর :- দলের প্রতি আনুগত্য হারিয়ে অনেকেই অন্য দলে চলে গেছেন আমি জানি, নেতা থেকে কর্মী যারা কংগ্রেস ত্যাগ করেছেন – ফিরে আসুন কংগ্রেসে। CPI(M)-র যারা প্রতিবাদী আপনারাও সামিল হোন কংগ্রেসের গণতন্ত্র উদ্ধারের সংগ্রামে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*