ত্রিপুরার জন্য বাংলাদেশই একমাত্র নিরাপদ রুট

Untitled-2আগরতলা, ০৩ ফেব্রুয়ারী ।। রাজ্য থেকে ভারতের অন্য রাজ্যে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশই একমাত্র নিরাপদ রুট। এ পথটিই বেশি ব্যবহার করছেন রাজ্রযের বাসিন্দারা। মূলত রেল, সড়ক ও আকাশপথে জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ উপায় অবলম্বন করছেন তারা। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগে ত্রিপুরা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন হতো তৎকালীন পূর্ব বাংলা (বর্তমানে বাংলাদেশ)-এর উপর দিয়ে। ত্রিপুরার মানুষের জন্য বাংলাদেশই কলকাতা, নয়া দিল্লি, মুম্বই ও ভারতের অন্যান্য অংশে যাওয়ার জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ। কেননা, এখন ত্রিপুরা থেকে সড়ক, রেল ও বিমানপথে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

ঢাকা থেকে আগরতলায় বাস সার্ভিস রয়েছে। ২০০৩ সালে এ বাস সার্ভিস চালু করে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও ত্রিপুরার টিআরটিসি। এর আগে ১৯৯৯ সালে কলকাতা ও ঢাকার মধ্যকার বাস সার্ভিস চালু হয়। বাস অথবা ট্রেন দিয়ে কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলায় যেতে সময় লাগে প্রায় ১৮ ঘণ্টা। বাসে যেতে প্রায় ১৬০০ টাকা ও ট্রেনে যেতে প্রায় ৫০০ টাকার মতো খরচ হয়।

বিমানের অভাবে মাঝেমধ্যে বিমান টিকিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায়। ফলে রোগী, চাকরিপ্রার্থী, ছাত্র, পর্যটক সহ শ’ শ’ যাত্রী প্রায়ই আগরতলা, কলকাতা কিংবা গুয়াহাটিতে আটকে যান। গত বছর জেট এয়ারওয়েজ, সপাইস জেট সহ ৮টি এয়ারলাইন কলকাতা-গুয়াহাটি-আগরতলা রুটে সেবা বন্ধ করে দেয়ার পর এ সমস্ত শহরের মানুষের জন্য এক শহর থেকে অপর শহরে যাতায়াত করা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ত্রিপুরা পুলিশের এসপি সঞ্জয় রায় বলেন, আগরতলার বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি বিভিন্ন এয়ার টিকিট ভুয়া নামে কিনে রাখে। ফলে মানুষ টিকিট সঙ্কটে ভোগে। পরে ওই সব ট্রাভেল এজেন্সি বেশ চড়া দামে মানুষের কাছে টিকিট বিক্রি করে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।ত্রিপুরার পরিবহন মন্ত্রী মানিক দে বলেন, রাজ্যের মানুষ বিমানপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। কেননা, সড়ক ও রেল যোগাযোগের অবস্থা ভাল নয়।

এদিকে ত্রিপুরার সঙ্গে মিজোরাম ও মণিপুর, দক্ষিণ আসামসহ দেশের বাকি অংশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সংস্কারের কারণে গত ১লা অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে। এ সংস্কার কার্যক্রম ২০১৬ সাল পর্যন্ত চলবে। ফলে বিকল্প রাস্তা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশ হয়ে যোগাযোগ। এর আগে ২০১২ সালে ভারতের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস করপোরেশনকে ভারি যন্ত্রপাতি, টার্বাইন ও অন্যান্য জিনিস পরিবহনের জন্য আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*