দুধের ব্যবসায় নামছে কোকাকোলা

cocআন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। আমেরিকার বাজার ধরে রাখতে ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনছে কোকাকোলা৷ ব্যবসা বাড়াতে ঠান্ডা পানীয়ের বদলে দুধের উপরে বাজি ধরছে সংস্থাটি৷ মার্কিন ক্রেতারা নরম পানীয় থেকে ধীরে ধীরে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ায় এবার অন্যান্য পণ্য তৈরি ও তার বিক্রির উপর জোর দিচ্ছে এই বহুজাতিক সংস্থাটি৷ ব্যবসা সম্প্রসারণের অন্যতম অঙ্গ হিসাবে বাজারে উচ্চমানের দুধ, ফেয়ারলাইফ আনতে চলেছে কোকাকোলা৷ অতিরিক্ত প্রোটিন ও কম শর্করাযুক্ত এই দুধ কিনতে ক্রেতারা দ্বিগুণ দাম দিতেও ক্রেতারা পিছপা হবেন না দাবি সংস্থাটির৷

ক্রেতা মানসিকতার পরিবর্তনও সংস্থাটিকে এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য করেছে৷ অতিরিক্ত খাদ্যগুণ রয়েছে এমন খাদ্য ও পানীয় ক্রেতারা কিনতে চাইছেন৷ অতিরিক্ত ফাইবার, অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট বা প্রোটিন সম্বলিত খাবারের দিকেই ঝোঁক বাড়ছে সে দেশের মানুষের৷ ক্রেতাদের এই প্রত্যাশাই ব্যবসার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে কোকের সামনে৷ বিভিন্ন প্রকারের দুধের মধ্যে খুব একটা তুলনামূলক পার্থক্য থাকে না বলে এর উপরেই বাজি ধরেছে কোক৷

নভেম্বরে এক আলোচনাসভায় আমেরিকায় কোকাকোলার প্রেসিডেন্ট স্যান্ডি ডগলাস বলেন, ‘এটা দুধের গুণমান বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই নয়৷ ঠিকঠাক তৈরি করা গেলে এই ধরণের পণ্য বিক্রি করে প্রচুর লাভ হতে পারে৷’ ২০১২ সালে সিলেক্ট মিল্ক প্রোডিউসারসের সঙ্গে একযোগে ফেয়ারলাইফ তৈরি করে কোকাকোলা৷ যে প্রক্রিয়ায় স্কিম মিল্ক তৈরি করা হয় ফেয়ারলাইফ তৈরির সময় সেই একই প্রক্রিয়ায় দুধের পরিশ্রুতিকরণ করা হয়৷ দুধের অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলিকে পৃথক করার জন্য এই পরিশ্রুতিকরণ করা হয়৷ পরিশ্রুতিকরণের পরে তাতে খাদ্যগুণ রয়েছে এমন উপাদানগুলি যোগ করা হয় এবং তুলনামূলক কম খাদ্যগুণ সম্বলিত উপাদানগুলিকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, সংস্থাটি জানিয়েছে৷

ফেয়ারলাইফে সাধারণ দুধের তুলনায় ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত প্রোটিন, ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম এবং ৫০ শতাংশ কম শর্করা রয়েছে, জানিয়েছে কোকাকোলা৷ তা ছাড়া ফেয়ারলাইফ সম্পূর্ণ ল্যাক্টোজ মুক্ত৷ একই প্রক্রিয়ায় ফেয়ারলাইফের কোর পাওয়ার দুধ তৈরি করা হয়৷ ক্রীড়াবিদদের কাছে ওই দুধ বিক্রি করে সংস্থাটি৷ কোর পাওয়ারে আরও বেশি প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে, জানিয়েছে কোকাকোলা৷- ওয়েবসাইট।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*