“আমডার নববর্ষ নাই গো বাবু”. . . . . . . .!

labourদেবজিত চক্রবর্তী, আগরতলা, ১৫ এপ্রিল ।। পূবাকাশে সূর্যোদয় প্রাত্যহিক ঘটনা, কিন্তু বাংলা নববর্ষের প্রতূষ্যের সূর্যরশ্মি নিয়ে আসে জীবনানন্দের নতুন বারতা। প্রকৃতি পরিবেশে বৈশাখের আগমনে যখন ঘরে ঘরে আনন্দ অনুষ্ঠান পালনের প্রস্তুতি, জগতের এই আনন্দযজ্ঞ থেকে বহু দূরে কিছু মানুষ কোদাল, বেলচা, ঝুড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল বটতলার শিবমন্দিরে। বৈশাখ, labour.jpg1নববর্ষ, আনন্দ যাঁদের জীবনের ধারাপাতে বর্ণহীন, গন্ধহীন একটা দিন ছাড়া কিছুই নয় বলেছেন সেই মানুষগুলো। দূর দূরান্ত থেকে রোজ কাজের খোঁজে মানুষ গুলো শহরে আসে। নববর্ষের দিনেও যে রুটিনে ছেদ পড়েনি।
পয়লা বৈশাখে কাজ করতে এসেছেন কেন? ভালোমন্দ খাবার জোটে কি? নববর্ষে কি আনন্দ লাগে? – এমনতর প্রশ্নের উত্তর আজকের মত দিনে অনেকেই উচ্ছাসের সঙ্গেই দিতেন কিন্তু রুটির সন্ধানে নববর্ষে পেটের চামড়ায় ভাজ পড়া বটতলা শিবমন্দিরের মানুষ গুলো পয়লা বৈশাখে জীবন যুদ্ধের যে কাহিনী শুনিয়েছেন তাতে বর্ণময় বৈশাখ প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।
বাবুদের বাড়ী যদি কাজ মেলে – দিনান্তে বাজার নিয়ে বাড়ী ফেরা, ছোট্ট সন্তানের মুখে পড়বে ভাত – তখন সূর্যদেবও অস্তাচলে, পয়লা বৈশাখের একেবারে অন্তিম পর্বের শ্রমিকের পাতের সেই পুরনো ম্যানুতেই নববর্ষ পালন। “নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা ডট কম”-র এই প্রতিনিধির সেই মানুষগুলিকে আরও প্রশ্ন করার ইচ্ছে থাকলেও . . . . . . . . . . ।
পয়লা বৈশাখে বটতলা শিব মন্দিরে শ্রমিকের মুখের সেই কথা গুলো এখনো কানে বাজছে – “আমডার নববর্ষ নাই গো বাবু”. . . . . . . .!

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*