সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০৭ ডিসেম্বর || জুয়ার করিডোর এখন তেলিয়ামুড়া শহর। প্রায় প্রতি দিনই সুপারস্টার বা অর্কেস্ট্রারের নামে তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকাতে একদিকে যেমন উশৃংখলতা ও উদ্বামতা চলছে, ঠিক এর পাশাপাশি সুপারস্টারের আড়ালে প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে চলছে ঝান্ডি মুন্ডা জুয়ার আসর, এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর। আর তেলিয়ামুড়া থানা এলাকায় প্রতিদিন এধরনের অনুষ্ঠানের আড়ালে যে জুয়ার আসর তার অপ্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছে তেলিয়ামুড়া থানা, এমনটাও অভিযোগ এলাকাবাসীর।
তেলিয়ামুড়া মহকুমার আরক্ষা দপ্তরের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, তেলিয়ামুড়া থানা এলাকায় প্রতিদিন সুপারস্টার বা অর্কেস্ট্রারের আড়ালে চলা জুয়ার আসর থেকে থানার বড়বাবু সহ তার স্থলাভিষেক একাংশ পুলিশ অফিসাররা নিয়মিত নগদ নারায়ন পেয়ে যাচ্ছেন। তাইতো তেলিয়ামুড়া থানা এক্ষেত্রে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকায়। কিন্তু তেলিয়ামুড়া থানা ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করলেও রঙ্গিয়াটিলা, তুইমধু সহ লক্ষীরাম হাটি এলাকার সমাজ সচেতন একাংশ মানুষ নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই প্রকারের অনাচারকে বন্ধ করার জন্য উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করে।
এলাকাবাসীরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এলাকাবাসীর তরফ থেকে চলতি মাসের তিন তারিখ তেলিয়ামুড়া থানায় তথ্য সমৃদ্ধ লিখিত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে এই প্রকারের সুপারস্টার বা অর্কেস্ট্রারের আসর বন্ধ করার কাতর আবেদন জানিয়েছিল। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু ৩রা ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ অতিক্রম হতে চললেও তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ কোন ভূমিকা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোটা এলাকার লোকজন তেলিয়ামুড়া থানা বিশেষ করে তেলিয়ামুড়া থানার ওসি সুব্রত চক্রবর্তীর ভূমিকায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের নিকট অভিযোগ করে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যেমন ক্ষোভ প্রকাশ করে ঠিক এর পাশাপাশি অনতিবিলম্বে তুইমধু এলাকার এই সুপারস্টার বা অর্কেস্ট্রার নামে অসামাজিকতা এবং ঝান্ডি মুন্ডার আসর রোধ করতে যাতে প্রশাসন ভূমিকা পালন করে সে ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
যদিও এলাকা সূত্রে খবর, এলাকার সচেতন জনগণ এই অনাচার বন্ধের ব্যপারে তেলিয়ামুড়া থানা থেকে হতাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত খোয়াই জেলা পুলিশ সুপার ডঃ রমেশ কুমারের নিকট ফোন যুগে এই ঘটনার সম্পর্কে বিষদ তথ্য তুলে ধরেন। এর পরপরই জেলা পুলিশ সুপারের গুঁতো খেয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সুপারস্টার বন্ধের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করে বলে জানান এলাকাবাসীরা।
