
গোপাল সিং, খোয়াই, ৯ মে ।। কথায় আছে ‘অপরাধকে ঘৃনা করো, অপরাধীকে নয়…’! কিন্তু খোয়াই থানা বাবুরা ঠিক তার উল্টোটাই করলেন। আন্তর্জাতিক শিশু দিবস, শিশু শ্রম দিবস সবটাই বৃথা করে দিয়ে মানবিকতাকে হারিয়ে নজীর গড়ল খোয়াই পুলিশ প্রশাসন। ২৮শে এপ্রিল খোয়াই চেবরী দিব্যুদয় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সন্নিকটে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় মৃতের স্ত্রী, বড় ছেলে এবং মেয়ে ও ছোট নাবালক শিশুকে কোন এরেষ্ট না দেখিয়ে তিন-দিন টানা জেরা করে খোয়াই থানার পুলিশ। স্বামীকে খুনের অভিযোগে স্ত্রীকে জেরা করে অনেক ক্ল্যু পেয়েছে পুলিশ। কিন্তু সত্য উদঘাটন করতে গিয়ে যে অমানবিক কাজ পুলিশ প্রশাসন করলো তা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা খোয়াইবাসী। খোয়াই থানার দ্বিতল ভবনটিতে বেশ চাকচিক্য থাকলেও, ভেতরে বড় বাবুদের টেবিলের পাশে মেঝেতেই ধুলা-বালির মধ্যে ঐ নাবালক শিশুটিকে দু’মুঠো ভাত খেতে দেওয়ার দৃশ্য অনেককেই কাঁদাবে, এটা নিশ্চিত। এই অবোঝ শিশুটি তিন দিন থানায় থেকে কত কিছু দেখল, শুনল। কি অভিজ্ঞতা অর্জন করল? জেল এখন সংশোধনাগারে রূপান্তরিত হলেও, শিক্ষার অধিকার আইনে পরিবর্তন আনা হলেও শৈশবকে রক্ষা করার জন্য সবাই কি সত্যিই এগিয়ে আসছেন? অন্তত খোয়াই থানা বাবুদের এহেন অমানবিক কান্ডে এমনটা মনে করছেন না খোয়াইয়ের সকল অংশের মানুষ। প্রকৃত দোষীর সাজা হউক এটা সবাই চাইলেও, নাবালক শিশুকে এভাবে জেরার পাশাপাশি মেঝেতে খাবার দেওয়ার ঘটনা কোনভাবেই মেনে নিচ্ছেন না শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ।
