বিদ্যুৎ যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে ভেঙে তছনছ করলো অফিসের আসবাবপত্র

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৮ জুলাই || বিদ্যুৎ যন্ত্রনায় অতিষ্ট গ্রাহকরা বেসরকারি বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে ভেঙে তছনছ করলো অফিস সহ আসবাবপত্র। প্রায় দেড় ঘন্টা বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চলাকালীন সময়ে গন্ডাছড়া মহকুমা থানার চারজন দারোগা সহ একদল টিএসআর জওয়ান ছিল ঠুঠু জগন্নাথের ভূমিকায়। হামলার ঘটনার আচ পেয়ে অফিসের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে কোন রকমে আত্ম রক্ষা করেন অফিস কর্মীরা। উক্ত ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে গোটা মহকুমায়।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমার বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ফিডকো। গন্ডাছড়া মহকুমার বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব ফিডকো’র হাতে যাওয়ার পরই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে হাজারো অভিযোগ উঠতে থাকে। নামে বেনামে বিদ্যুৎ বিল, বাড়তি বিদ্যুৎ বিল। মহকুমার কোন স্থানে বিদ্যুৎ এর গোলযোগ দেখা দিলে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সাহায্য পেতে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় আমবাসা অফিসে ফোন করুন। তাছাড়াও মহকুমার জনজাতি অধ্যুষিত বেশিরভাগ পাড়াগুলিই মাসের বেশিরভাগ সময় অন্ধকারে ডুবে থাকে বলে অভিযোগ। অভিযোগ গত আট-দশ দিন যাবৎ গন্ডাছড়া মহকুমার বেশ কয়েকটি জনজাতি গ্রাম বিদ্যুৎহীন অবস্থায় নিমজ্জিত ছিল। ঐ সমস্ত গ্রামের লোকজন বারবার বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিদ্যুৎ সারাইয়ের আবেদন করেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাজারে প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম দেড়শো টাকা। এত চড়া মূল্যে কেরোসিন কিনে ঘরে আলো জ্বালানো কোন ভাবেই সম্ভব নয়। একদিকে অভাব অনটন অপরদিকে দাবদাহ গরমের হাঁসফাঁস যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক রবিবার রাত আটটায় বিদ্যুৎ অফিসে ফিডকোর দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের গ্রামের বিদ্যুৎ যন্ত্রণার কথা জানাতে আসলে বিদ্যুৎ অফিসাররা গ্রাহকদের শান্তনা না দিয়ে উল্টো বিশ্রী ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। তা নিয়েই একসময় শুরু হয় বাক বিতন্ডা। হামলার আচ করতে পেরে অফিসের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান অফিস কর্মীরা। কথা বলার জন্য অফিসে কাউকে হঠাৎ করে না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন গ্রাহকরা। শুরু হয় ভাঙচুর। সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন চার জন দারোগা সহ একদল টিএসআর জওয়ান। পুলিশ, টি এস আর আসলেও পাত্তা দিতে নারাজ গ্রাহকরা। পুলিশ টি এস আর জওয়ানদের সামনেই অফিসে ভাঙচুর চালায় গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ অফিসে প্রায় দেড় ঘন্টা চলে ভাঙচুর এবং তান্ডব লীলা। পুলিশ ছিল সম্পূর্ণ জগন্নাথের ভূমিকায়। ধ্বংসকান্ড চলা কালীন সময়ে সমস্ত নেতারা যখন দৌড়ে পালিয়ে ছিলেন তখন এগিয়ে আসেন সমাজসেবক তথা স্থানীয় এক নেতৃত্ব চরণবাসী ত্রিপুরা। চরণবাসী ত্রিপুরার মুখ থেকে আশ্বাস পেয়ে শান্ত হন উত্তেজিত বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। সোমবারের মধ্যে সঠিক বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদানের আশ্বাসে বিদ্যুৎ অফিস ত্যাগ করেন গ্রাহকরা। উক্ত ঘটনায় গোটা মহকুমায় ফিডকো উপর তিতিবিরক্তি সৃষ্টি হয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*