রাবার চুরির ঘটনায় রাবার মালিকের প্রেস মিট

kpcগোপাল সিং, খোয়াই, ১ জুন ।। খোয়াই জেলায় এই প্রথমবার খোয়াই প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে খোয়াই রাবার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুললেন খোয়াই থানা বাবুদের বিরুদ্ধে। ‘চোরে-পুলিশে মাসতুতু ভাই’ এই প্রবাদ বাক্যটাকে আবারোও সত্যি করে দেখালেন খোয়াই থানার গুনধর পুলিশ কর্তাবাবু ও পুলিশ কর্মীরা। প্রেস মিটে রাবার ব্যবসায়ীদের সরাসরি অভিযোগ, পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে অভিযোগকারীদের দিকে তেড়ে আসে। কারন উনারা আগে থেকেই ম্যানেজ হয়ে যান। নয়তো এটা সম্ভব হতো না।
রবিবার খোয়াই প্রেস ক্লাবে মিডিয়ার সাহায্য প্রত্যাশা করে রাবার ব্যবসায়ীরা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব চলাকালীন সময়ে রাবার চাষ এবং রাবার ব্যবসা করে অনেকেই খেয়ে-বেঁচে আছেন। রাবার সিট তৈরী এবং মজুত রাখা একটু দুস্কর ব্যাপার। রাবার গাছের কষ সংগ্রহ করে তার থেকে যে সিট তৈরী হয় তা থেকে উদ্ভট গন্ধ বের হয়। তার জন্য একটু জনবসতিহীন স্থানেই এর মজুত রাখা হয়। আর এই নির্জনতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একাংশ চোরাকারবারীরা ঐ সব রাবার সিট মজুত ভান্ডারে হানা দেয়। জানা যায় শহর এবং গ্রামীন এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, চোরকারবারীরা সেই সকল চুরির মালামাল ক্রয় করে। যার একটা অংশ বাংলাদেশে, কিছু অংশ গৌহাটিতে পাচার হয়। 
এধরনেরই একটি ঘটনা ঘটে খোয়াইতে। গত ২৭শে মে ২০১৫ তারিখে খোয়াই ধলাবিল কলোনী রাবার ফেক্টরি থেকে নয়শ কেজি রাবার সিট চুরি হওয়ার ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য খোয়াইতে। TRO1P-1737 নম্বরের একটি লড়ি করে চুরি করা রাবার পাচার হবার পথে মাঝ পথে লড়ি রেখেই লড়ির চালক পালিয়ে যায়। এই লড়ির মালিক খোয়াইয়েরই। এদিকে রাবার ফেক্টরির মালিক পক্ষ সরাসরি খোয়াই থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, উনাকে থানার এসআই ও বড় বাবু শুরু থেকেই এফআইআর বদলে ফেলার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। বলা হচ্ছে নয়শ কেজি রাবার সিটের বদলে বহু রাবার কথাটি ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু রাবার ফেক্টরির মালিক পক্ষ তা মানতে রাজী না হওয়ায় তাদের সাথে বিরুপ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। তাছাড়া অভিযোগকারীরা নিজেদের উদ্যোগেই লড়িটির পেছন ধাওয়া করা এবং রাবার সিট পাচার কাজে ব্যবহৃত লড়ীটি আটক করে। এক্ষেত্রে খোয়াই থানা বাবুরা প্রতিশ্রুতি দিয়েও লড়িটিকে আটক করতে একবারের জন্যও আসেনি বলে অভিযোগ করেন রাবার ফেক্টরির মালিক পক্ষ। লড়ি আটকের পর চালককে পাকড়াও করতেও গড়িমশি শুরু করেন থানা বাবুরা। একসময় চালক নিজে থেকেই ধরা দেয়। কিন্তু রাবার সিট পাচার করার কথা সে অস্বীকার করে। রাবার সিট নয় ‘বাম্পাই বিট’ চুরি করেছে বলে লড়ির চালক পুলিশকে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রেও ‘বাম্পাই বিট’-এর মতো নেশা জাতীয় সামগ্রী পাচার বা চুরি করার দায়ে লড়ির চালককে গ্রেফতার না করে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ অভিযোগকারীদের। তাই খোয়াই থানার প্রতি বিন্দুমাত্র ভরসা না পেয়ে রাবার ফেক্টরির মালিক পক্ষ এদিন মিডিয়ার দ্বারস্থ হন।
পাশাপাশি অপর একটি ঘটনায় এদিন ত্রিপুরা রাবার বোর্ডের খোয়াই সাব কমিটির সদস্য খোকন ভৌমিক জোড়ালো গলায় নাম-ধাম দিয়ে সন্দেহজনকভাবে কাজল বর্মন, অভিজিৎ দেবনাথ, সমীর বর্মন-এর নাম প্রকাশ্যে আনেন। তিনি খোয়াই থানা বাবুদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে উনার ব্যাক্তিগত রাবার সিট চুরির ঘটনায় করা এফআইআর-এর একটি কপি মিডিয়ার সামনে তুলে ধরে জানা, বিগত ২০শে এপ্রিল তিনি এই এফআইআর’টি করেছিলেন। প্রায় এক মাস পর, ১৯শে মে তিনি এই এফআইআর-এর কপিটি হাতে পান। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে রাবার সিট চুরির অভিযোগ তাদের কাউকেই জেরা করতে দেখেননি বলে অভিযোগ তুললেন খোয়াই পুলিশের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তিনি নিশ্চিতভাবে বলেন, খোয়াই ধলাবিল কলোনী রাবার ফেক্টরি থেকে নয়শ কেজি রাবার সিট চুরি হওয়ার ঘটনায় এরাই জড়িত থাকতে পারে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*