গোপাল সিং, খোয়াই, ১১ জুন ।। মাথায় পাগড়ি। শরীরে সাদা-মাটা সাধু-সন্নাসী পোষাক। জঙ্গলের ভেতর মাটির ঘরের কঙ্কালসাড় আধ-টুকরো ভগ্নাবশেষ এর উপর বাঁশের কঞ্চি ও পলিথিন দিয়ে কোনক্রমে ঘরের আকৃতি বানানো ছাদনতলাই এখন আশ্রয়ের একমাত্র অবলম্বন তাঁর। তিনি এক ভ্রান্ত যুবক ছিলেন বলেই নেশার কবলে পড়ে নিজ পিতা কর্তৃক বাড়ী থেকে বিতাড়িত। কি ছিলনা তাঁর! বিএ পাশ, ম্যানেজম্যান্ট ও আইটিআই পাশের সার্টিফিকেট। যেকোন ক্ষেত্রে চাকুরী করে জীবনটা কাটত বেশ আরামসে্। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসই বলুন, আর নেশার কড়াল গ্রাস। জীবনের গতিপথ ১৮০ ডিগ্রি মুড়ে গিয়েছে।
খোয়াই লাঠাবাড়ী এলাকার গভীর জঙ্গলাকীর্ন স্থানে স্থানীয়দের দয়ায় একটি কুড়ে-ঘরে আশ্রিত হয়েছেন নিজের বাড়ী এবং বিভিন্ন স্থান থেকে বিতাড়িত হয়ে। মাস খানেক হয়েছে এই লাঠাবাড়ীতে এসেছেন সাধু বাবা। নাম তাঁর পুষ্পেন্দু। কিন্তু তাঁর গুরুদেব তাঁকে নাম দিয়েছেন পুষ্প চন্দ্র নাথ। প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাতে তিনি জানালেন, কিভাবে তাঁর আশে-পাশের নেশাখোর মানুষ তাকে আকড়ে থাকে। তিনি কোনদিন নেশার কবল থেকে মুক্ত হতে না পারলেও, তাঁর একটাই ইচ্ছা। সেটা হচ্ছে সমাজ থেকে নেশা ও নেশাগ্রস্থতাকে দুর করা। তাই তিনি গুরুমন্ত্র দিয়ে নেশাগ্রস্থদের নেশার কবল থেকে মুক্ত করেন। তিনি গীতা পাঠ করে মানুষকে নেশামুক্ত হবার জন্য অনুপ্রানিত করেন, মন্ত্র-মুগ্ধ করেন। মানুষও দূর-দুরান্ত থেকে পুষ্পন্দু চন্দ্র নাথের কাছে ছুটে আসছেন। লোকমুখে শুনা যায়, তিনি নাকি সিদ্ধি সেবন করেন। ফল, জল ও অন্ন গ্রহন করেন না। ওনার হস্তক্ষেপেই খোয়াই লাঠাবাড়ী এলাকার মানুষ নেশার কবল থেকে মুক্ত হচ্ছেন। অন্তত জনগন তো তাই বলছেন!
