কৃষি দপ্তরের অকর্মন্যতায় কৃষকরা শ্রী পদ্ধতিতে ধান চাষে অরাজী

krগোপাল সিং, খোয়াই, ২ জুলাই ।। রাজ্যের কৃষি কমিশনার ড. জি.এস.জি. আয়েঙ্গার সাহেবকে খুশি করতে খোয়াই কৃষি মহকুমার কর্মকর্তারা সরকারী টাকার শ্রাদ্ধ করে ২৭শে জুন পদ্মবিলের ভক্ত পাড়ায় চার হেক্টর জমিতে শ্রী পদ্ধতিতে ধান চাষে উদ্যোগী হয়। সেখানে আয়েঙ্গার সাহেবকে খুশি করতেই এসআরআই পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপন করা হয়। কৃষি কমিশনার সাহেবও খোয়াই কৃষি মহকুমার কাজে খুব সন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু এতসব কিছুর পরও এলাকার কৃষকরা এই পদ্ধতিতে চাষ করতে অনীহা দেখাচ্ছেন। কিন্তু কেন? প্রশ্নটা এসেই যায়। দেখা যাচ্ছে স্থানীয় কৃষক বিষ্ণু দেববর্মা খোয়াই কৃষি দপ্তরের প্রতি আর কোন আস্থা রাখতে পারছেন না। তিনি নিজেই জানান, শ্রী পদ্ধতি ছেড়ে পাইজা-টু ধানের চারাই রোপন করবেন নিজের ধানের জমিতে। আর এই অনীহা বিনা কারনে নয়। বিষ্ণু দেববর্মা অনেকটা ক্ষোভের সুরেই জানালেন খোয়াই কৃষি দপ্তর এদিন কৃষি কমিশনারকে খুশি করার জন্য বিষ্ণু বাবুর খেতের ধানের চারা দিয়েই অন্য কৃষকের খেতে রোপন করেন। তাছাড়া কৃষি দপ্তর কৃষকদের শ্রী পদ্ধতির কোন চারাই সরবরাহ করেনি। অথচ কৃষি কমিশনার আয়েঙ্গার সাহেবকে খুশি করতে ২৭শে জুন খোয়াই কৃষি আধিকারিকরা ধান খেতে নেমে কৃষকদের উৎসাহিত করতে নিজেরাই ধানের চারা রোপন করেন এবং চার দিন পর আবার ঐ এলাকায় এসে ধানের চারা রোপন করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এদিন আয়েঙ্গার সাহেবকে খুশি করে পদ্মবিল ভক্তপাড়া থেকে কেটে পড়ার পর এখন পরযন্ত আর দেখা নেই কৃষি আধিকারিকদের। অথচ কৃষকরা তাদের কৃষি জমিতে সার-ওষুধ দিয়ে জমি পরিপূর্ণ করে বসে থাকেন, কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের আশায়। কিন্তু একের পর এক দিন কেটে গেলেও বেপাত্তা কৃষি দপ্তরের আধিকারিক সহ দপ্তরের কর্মীরা। এরই মধ্যে জলের অভাবে কৃষি জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ধান খেতে জলসেচ এর সরকারী ব্যবস্থা না থাকায় বিষ্ণু দেববর্মা দমকল লাগিয়ে ছড়া থেকে কৃষি জমিতে জল সরবরাহ করছেন। যদিও সেই স্থানে একটি সরকারী জলসেচ প্রকল্প এক বছর ধরে তালা বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। সুফল পাচ্ছেন না এলাকার কৃষকরা। এই অবস্থায় রাজ্যের কৃষি দপ্তর বিভিন্ন প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায় করলেও প্রকৃত কৃষকরা এভাবেই বঞ্চিত হচ্ছেন। আর সবটাই সম্ভব হচ্ছে কৃষি দপ্তরগুলোর চরম গাফিলতির ফলেই। কৃষি কমিশনারকে খুশি করার জন্য যে কাজটা খোয়াই কৃষি দপ্তর করল, তাতে কৃষকদের মধ্যে দপ্তরের ভাবমূর্ত্তি কোথায় গিয়ে ঠেকল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*