দৈনন্দিন সমস্যায় নাজেহাল খোয়াইবাসী

dusগোপাল সিং, খোয়াই, ১৫ জুলাই ।।  ঠিক যেমন খোয়াই, মহকুমা থেকে জেলায় উন্নিত হয়েছে, তেমনি নটিফাইড এরিয়া নগর পঞ্চায়েত এবং বর্তমানে খোয়াই পৌর পরিষদে। দেশ এবং রাজ্য মানচিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে, পাল্টায়নি জনগন এর অভিমত। খোয়াই-এর সিঙ্গিছড়া থেকে মহাদেবটিলা, জাম্বুরা থেকে চরগরকী, আংশিক রাস্তা প্রশস্থ হলেও, (ড্রেইন) জল নিষ্কাষনী ব্যবস্থার  গুনগত মান খুবই খারাপ। রাস্তার পাশে হাঁটা-চলার ক্ষেত্রে দৈনন্দিন সমস্যা হচ্ছে পথচারীদের, কারন মূল সড়ক এবং হাঁট-বাজার এলাকায় ফুটপাত দখল (যা সহজেই মুক্ত করা যায়) একটা বিরাট সমস্যার সৃষ্টি করছে। এছাড়া দৃষ্টিনন্দন রাস্তায় রাতের অন্ধকারে চলা ফেরা দায়। কারন স্ট্রীট লাইটের শীতল আলো। টিমটিম করে খোয়াই পৌর পরিষদ এলাকার সড়কপথ দৃষ্টিগোচর হয়না রাতের অন্ধকারে। মুনি-ঋষিদের মর্মর মূর্ত্তির চারদিকেও আলোকসজ্জা বর্তমানে খুবই দৃষ্টিকটু হয়ে পড়েছে।

খুদ খোয়াই শহরের উপকণ্ঠে বাজার-হাঁট নুংরা-পুঁতিময় অবস্থায়। বাজারগুলি কতিপয় মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের দখলে। কৃষক সমাজ উপেক্ষিত হওয়ায় বাজার-হাঁটে অধিক দামে জিনিষ ক্রয় করতে হয় খোয়াই-এর আপামর জনসাধারনকে। পান চাষী হউক বা সবজি নিয়ে আসা সাধারন কৃষক, জায়গা পাননা বাজারগুলিতে।

সাথে রয়েছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা। খোয়াই পৌর পরিষদ এলাকায় শৌচাগারের অভাব, বিশেষ করে মহিলাদের। যে ক’টি রয়েছে তা বাজার-হাঁট বা সুভাষপার্ক বাজার থেকে এতটাই দূরে যে, সেখানে যেতে গাড়ী ভাড়া বা রিক্সা চেপে যেতে হবে। সাধারন মানুষের সাধ্যের মধ্যে নেই, এমনকি মহিলাদের ক্ষেত্রে তো নয়-ই। তাছাড়া শহরে যাত্রী শেডগুলিরও নুংরা-পুঁতিময় অবস্থা। যাত্রীরা বিশ্রাম নেবার সুযোগটুকুও পাননা।

দ্রুতি গতিতে দামী গাড়ীতে বসে যদি প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিমেশেই চলে যান তবে জনসাধারনের এই সমস্যাগুলি কখনোই অনুধাবন করা যাবেনা। তাই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অন্তত সকাল ১০টা এবং সন্ধ্যা ৬টায় পায়ে হেঁটে বাজার-হাঁট পরিদর্শন করতে হবে। তবেই হয়তো জনগনের প্রকৃত সমস্যা প্রশাসনের চোখে বিঁধবে, এমনটাই অভিমত খোয়াইয়ের আপামর জনসাধারনের। কিন্তু এ যাবত সমস্যা সঙ্কুল অবস্থার জন্য প্রশাসনের দূরদর্শিতার অভাবকেই দায়ী করছেন জনগন। যা হচ্ছে অধিকংশ ক্ষেত্রেই প্ল্যান ছাড়া। খোয়াই শহরকে যানজটমুক্ত রাখা খুবই সহজ ছিল, যদি কোহিনূর মার্কেটের গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিং-এর বন্দোব্যস্ত থাকতো। দূরদর্শিতার অভাব থাকায়, সেটাও সম্ভব হয়ে উঠেনি।

খোয়াই শহরের উপর বেশ কয়েকটি গোলচক্কর, চৌমূহনী থাকলেও একমাত্র প্রশাসনিক কর্তা, আমলা-মন্ত্রীদের জন্য সুবন্দোব্যস্ত হিসাবে বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক পুলিশি ব্যবস্থা রয়েছে। তাও নিম্নামানের। যেখানে দূর্ঘটনা প্রবনতা বেশী, সেখানে কোথাও ট্রাফিক পয়েন্ট থাকলেও দিক নির্দেশক কেউ নেই, কোথাও তো ট্রাফিক পয়েন্টই নেই! আশ্চর্য্য্যজনক ঘটনা হলেও সত্যি, খোয়াই শহরের উপকণ্ঠে দূর্ঘটনা প্রবন জোনে নেই ট্রাফিকি ব্যবস্থা। নিত্যদিনই হচ্ছে দূর্ঘটনা। যান চালক, বাইক চালকরা নিয়মানুবর্তিতাকে চুলোয় দিয়ে নির্দ্ধিধায় নিয়ন্ত্রনহীন, বেপরুয়া গতিতে শহরের উপর দিয়ে বাইক, গাড়ী চালিয়ে যাচ্ছে। যেটুকু ধরপাকর হয়, তা নামকা-ওয়াস্তে। সারাক্ষনই নৃপেন চক্রবর্তী এভিন্যুতে এসে পথচারীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। গাড়ী-বাইক-সাইকেল চালকদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবে নিত্যদিনই দূর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া টিকেডিকে রোড হয়ে লালছড়া, দূর্গানগর, মহারাজগঞ্জ বাজার অবধি যান-বাহনগুলি রাস্তার বাঁ দিক না ঘেঁষে, ডান দিকেই চলাচল করতে পছন্দ করেন। কারন রাস্তা সরু। অ-বৈজ্ঞানিক রাস্তায় ব্যালেন্স ঠিক রাখতে ছোট-বড় যান চালকরা ভূল দিক অনুসরন করে চলেন। আর তাতে প্রায়শ:ই দূর্ঘটনা ঘটছে। পথচারীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। যান চালক, বিশেষ করে বাইক চালকরা নিত্য-নতুন স্ট্যান্ট দেখিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নিজেকে হিরো প্রমান করতে ব্যস্ত। মনে হয় যেন ‘ধূম’ সিনেমা দেখেই রাস্তায় বেরিয়েছেন। হুস করে আপনার গা ঘেঁষে যদি একটি বাইক বা গাড়ী বেরিয়ে যায়, কেমন শিহরন জাগবে? আর ভয় কেমন হবে? খোয়াইয়ের ঐ সকল এলাকায় পথচারীদের এটা নিত্যদিনের সঙ্গী।

কিন্তু আশ্চর্য্য্জনক ঘটনা হল, প্রশাসন সব জেনে শুনেও নীরব ভূমিকায়। মিডিয়াতে ফলাও করে একের পর এক সংবাদ পরিবেশিত হলেও, টনক নড়ছেনা প্রশাসনের। প্রশাসন কি তবে মৃত্যুর বিভীষিকা দেখার অপেক্ষায়, প্রশ্ন জনমনে।

সুস্থ্য জল নিষ্কাশনী ব্যবস্থা, স্ট্রিট লাইট সমস্যা, বাজার-হাঁটে ফুটপাত, রাস্তা প্রশস্তিকরন সহ মহিলাদের জন্য শৌচাগারের দাবী জনসাধারনকে প্রতিবাদী করে তুলছে। অতিশীঘ্র প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এর আশায় প্রহড় গুনছেন খোয়াইবাসী।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*