“নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা”-র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে School of Science-র কর্ণধার অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য

School of Science-র কর্ণধার অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য

School of Science-র কর্ণধার অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য

শ্যামলীবাজারস্থিত School of Science-র কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখলাম সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত, শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ঢোকার মুখে ডানদিকের ঘরটায় দেখলাম কয়েকজন অভিভাবক, টুকটাক কথায় বুঝতে পারলাম School of Science-র সাফল্যের Track Record এ শিক্ষার্থীদের মত মাতা পিতারা পূর্ণ আস্থাবান সন্তানদের সাফল্য নিয়ে। কর্ণধার অভিজিৎ বাবু বললেন প্রচন্ড ব্যস্ত বেশী সময় দিতে পারব না। স্মৃতি আর স্বপ্নের মিশেলে School of Science-র কর্ণধার অভিজিৎ বাবুর সাক্ষাৎকারের প্রথম প্রশ্ন ছিল –

প্রশ্নঃ- School of Science কবে যাত্রা শুরু করেছিল?

উত্তরঃ- ১৯৮৭ সালে। তখন এই রাজ্যে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার কোনো প্রতিষ্ঠান ছিলনা।

প্রশ্নঃ- এই ধরনের প্রতিষ্ঠান শুরুর পেছনে কারন কি?

উত্তরঃ- আসলে সেই ১৯৮৭ সালে আমার মনে হয়েছিল এই রাজ্যে যদি প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার জন্য এখানকার ছাত্রছাত্রীদের জন্য কিছু করা যায় তবে উপকৃত হবে পড়ুয়া থেকে চাকুরীর সন্ধানে থাকা তরুন প্রজন্ম।

প্রশ্নঃ- School of Science-র শুরুর দিনের কথায় শ্রী ভট্টাচার্য্য কিছুটা ভাবুক হয়ে পড়েছেন বুঝতে পেরেছি –

উত্তরঃ- একেকটা দিন যে কিভাবে কেটেছে তা বলে বোঝাতে পারবনা। কোনো কোনো সময় নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করতাম যাত্রাপথের পাঁচালীতে কি লেখা আছে ঈশ্বর জানেন। তবে School of Science-র প্রথম ভর্তি হওয়া দু’জনের কথা কোনোদিন ভুলবনা – সুজা স্যামুয়েল এবং সুনীল স্যামুয়েল। এখন দু’জনেই বিদেশে আছে।

প্রশ্নঃ- দু’জনের সংসারে পরের বছরেই যে এতটা পরিবর্তন অপেক্ষা করে আছে, তা আসলেই অবিশ্বাস্য বললেন অভিজিৎ বাবু –

উত্তরঃ- যাত্রা শুরুর পরের বছরের প্রায় ৮০ জন ভর্তি হয় School of Science –এ। যারা ভর্তি হয় তারা মেধার প্রশ্নে ছিল মাঝারি মানের। ঘষতে ঘষতে একটা জায়গায় নেয়ার প্রচেষ্টা নিয়েছিলাম। যথারীতি পরীক্ষা হল – ৯ থেকে ১০ জন দুর্দান্ত ফল করেছিল, কেউ লেটার মার্কস পেয়েছিল – সেই সুভ যাত্রায় আর পেছনে ফিরে তাকায়নি School of Science।

প্রশ্নঃ- ছোট সাফল্যই কি স্বপ্নের পরিধি বাড়িয়েছে?

উত্তরঃ- ভাবলাম সাফল্য যখন এসেছে এটাকে যে করেই হোক ধরে রাখতে হবে। শুরুর দিকে যখন ভোরবেলা এসে বসে থাকতাম পাশের বাড়ীর ডাক্তারবাবু বলতেন কষ্টের শেষ কোথায়। এখনো ভোর ৭টায় আসি যাওয়ার সময় নির্দিষ্ট নেই।

প্রশ্নঃ- আপনার এখানে যারা কাজ করছেন তারা কি আপনার মত পরিশ্রমী?

    রাখ ঢাক না রেখে পঞ্চমুখে  প্রশংসা করলেন School of Science-এ যারা কাজ করছেন –

উত্তরঃ- আসলে এই ক্ষেত্রে আমি ভাগ্যবান, নইলে এমন dedicated লোকজন পাওয়া মুশকিল, ওরা আছে বলেই আমিও শক্তি পাই। অনেকে সুড়সুড়ি দেয় ওদের অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে। আমরা পুরো একটা টিম – কাজের সঙ্গে কোনো আপোষ নেই – We are united.

প্রশ্নঃ- সাফল্যের স্বীকৃতি যখন মেলে তখন কেমন লাগে?

উত্তরঃ- তখন মনে হয় হ্যাঁ কিছু একটা করতে পেরেছি সমাজের জন্য। উত্তর পূর্বাঞ্চলে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে School of Science শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি ভিন্ন রাজ্যের সংবাদ জগতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার পেয়েছে School of Science।

প্রশ্নঃ- আজকাল প্রতিযোগীতার বাজারে প্রচুর প্রতিষ্ঠান হচ্ছে – সে সম্পর্কে কিছু বলবেন?

উত্তরঃ- দেখুন বলতে গেলে আমি এক অর্থে ব্যবসায়ী। যে ব্যবসাই হোক যদি সততা আর নিষ্ঠা থাকে সফলতা আসবেই। School of Science ব্যবসার জন্য quantity –র চাইতেও বিশ্বাসী সত্য আর সততায়।

প্রশ্নঃ- School of Science এর শিক্ষাদানে faculty –দের সম্পর্কে বললেন –

উত্তরঃ- স্থানীয় যারা এখানে বিভিন্ন কোর্সে faculty হিসেবে কাজ করছেন তাদের মধ্যে Ph.D, M.Phil রা রয়েছেন। প্রয়োজনে বাইরে বাইরে থেকে faculty রা আসেন। স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ বিশ্বজীৎ গুহ, অভিজিৎ মিত্রের মত গুনী মানুষেরাও এখানে শিক্ষাদানে আসেন।

প্রশ্নঃ- খুব ছোট করে সাফল্যের খতিয়ানের কথায় –

উত্তরঃ- এখানে Civil Service, Eng., IFS, Judiciary, Panchayat, etc. T.P.S.C, S.S.C, Banking, T.C.S, T.P.S –এ প্রতিযোগীতায় সফল হওয়ার প্রশিক্ষন দেয়া হয়। এখান থেকে প্রায় ৭০০ জন বিভিন্ন দপ্তরে বড় বড় পোষ্টে চাকুরী পেয়েছে।

প্রশ্নঃ- জিজ্ঞেস করলাম এখান থেকে যারা পরীক্ষায় বসে ওদের জন্য আপনার Tension হয়?

উত্তরঃ- হেসে বললেন, ওদের চাইতেও বেশী উত্তেজনায় থাকি আমি, ঠাকুরকে বলি ওদের সাফল্যের জন্য। সাফল্যের কথা একটু বাকী – Medical Entrance –এ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সফলতা রয়েছে আমাদের। IIT তেও সাফল্য রয়েছে।

প্রশ্নঃ- যারা গরীব ঘরের এখানে প্রশিক্ষনের কি ব্যবস্থা রয়েছে –

উত্তরঃ- দেখুন এই মুহূর্তে গরীব ঘরের মেধা সম্পন্ন ছেলে মেয়েদের কিন্তু পড়াশুনা করার পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে। এখানে গরীব যারা আসে আমরা ব্যাঙ্কের সাথে যোগাযোগ করে দি, সরকারী স্তরেও নানা ভাবে সাহায্যের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশ্নঃ- মেধা থাকলেই কি সব সম্ভব?

উত্তরঃ- না, দ্বাদশে কেউ যদি ৫০ শতাংশ পায় সেও কিন্তু প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় বসে সফল হতে পারে। তবে হ্যাঁ, যেটা থাকতে হবে তা হচ্ছে দৃঢ় সংকল্প, সফল হওয়ার ইচ্ছা, কঠোর পরিশ্রমের মানষিকতা – এগুলো যদি কারো থাকে তবে School of Science তার স্বপ্ন পূরনের গন্তব্যস্থল হতে কোনো বাধা নেই। আমিও ঠিক এই মন্ত্র পুঁজি করেই এখানে পৌঁছেছি।

প্রশ্নঃ- ছকে বাঁধা রুটিনে কিছু ভিন্ন মুহূর্তের কথায় বললেন –

উত্তরঃ- School of Science থেকে পরীক্ষা দিয়ে কেউ যখন প্রনাম করে বলে স্যার পাশ করেছি – তখন এত আনন্দ হয় মনে হয় এই প্রতিষ্ঠানের পুরো কৃতিত্ব এখানকার পড়ুয়াদের। এদের জন্য School of Science-র এত সাফল্য।

প্রশ্নঃ- যারা স্বপ্ন দেখছে বড় হওয়ার, প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় বসবে ওদের জন্য কি বার্তা দিতে চাইবেন?

উত্তরঃ- যারা স্বপ্ন দেখছেন, প্রতিযোগীতার ময়দানে নামতে হবে ঘষে মেজে নিজেকে তৈরী করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছুতে হবে – তা মোটেও অসম্ভব নয়।

সর্বশেষ প্রশ্নঃ- আগামী দিনে School of Science নিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে?

উত্তরঃ- School of Science-র পরিকাঠামো বড় করতে চাই, আরও নতুন নতুন কোর্স চালু করার ইচ্ছে রয়েছে। এই রাজ্যে ট্যালেন্ট রয়েছে, ইচ্ছে রয়েছে বিশ্বাসও রয়েছে এই রাজ্য থেকে School of Science IAS তৈরী করবে।

                             সাক্ষাৎকারের মধ্যেই বার বার মোবাইলে কথা বলছিলেন অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য, অপেক্ষায় ছিলেন ছাত্রছাত্রী অভিভাবকরা – স্বভাবতই সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ করাই শ্রেয় মনে হল। School of Science-র কর্ণধার কথার ফাঁকে বলেছিলেন বিনোদনের জায়গা নেই, শুধু কাজেই কাটে সকাল সন্ধ্যা, কাজের আনন্দই এনে দেয় সফলতা – অভিজিৎ বাবু School of Science-র জন্য জীবনের আনন্দের স্থান যেমন নেমন্ত্রন্ন, ঘোরাঘুরি, আড্ডা সব থেকেই সন্ন্যাস নিয়েছেন।

                                                     সাক্ষাৎকার গ্রহনে দেবজিৎ চক্রবর্তী।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*