গোপাল সিং, খোয়াই, ০৮ এপ্রিল || খোয়াই সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির মাদক বিরোধী অভিযানে সাফল্য আসলেও, তা ঘিরে এখন দানা বাঁধছে নানা বিতর্ক ও জনরোষ। মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালছড়া ঘোষ পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ দেশী মদসহ সুভাষ ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তের রহস্যজনক জামিন পেয়ে যাওয়া এবং পুনরায় ব্যবসায় ফিরে আসার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির বিশেষ দল এদিন লালছড়া ঘোষ পাড়ায় সুভাষ ঘোষের ডেরায় হানা দেয়। তল্লাশিতে ৪৫টি প্লাস্টিকের বোতলে মোট ৪৫ লিটার অবৈধ দেশী মদ উদ্ধার করা হয়। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় মূল অভিযুক্ত সুভাষকে। পুলিশের এই তাৎক্ষণিক সাফল্যে এলাকাবাসী প্রথমে আশ্বস্ত হলেও, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তাঁরা হতবাক হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এলাকাবাসীর দাবি, ১৯৮৮ সাল থেকে আজ ২০২৬ পর্যন্ত—দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে খোয়াই ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবাধে বাংলা মদের কারবার চালিয়ে আসছে এই সুভাষ ঘোষ। অভিযোগের তীর আরও গভীরে; মানুষের প্রশ্ন, প্রায় চার দশক ধরে নেশার কারবার চালালেও আজ পর্যন্ত আইন কেন তাকে এক রাতের জন্যও শ্রীঘরে আটকে রাখতে পারল না? প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনের কোনো না কোনো ফাঁক দিয়ে সে বেরিয়ে আসে এবং পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে বিষাক্ত মদের ব্যবসা শুরু করে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের এই অভিযান কি তবে কেবলই প্রচারের জন্য বা ‘আইওয়াশ’? যদি গ্রেপ্তারের সাথে সাথেই অভিযুক্ত জামিন পেয়ে যায়, তবে এই ধরণের অভিযানের সার্থকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, প্রশাসনের উচিত কেবলমাত্র লোক দেখানো ধরপাকড় না করে শক্তিশালী আইনি ধারা প্রয়োগ করা, যাতে এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পায়। নেশামুক্ত সমাজ গড়ার সরকারি প্রতিশ্রুতির মাঝে সুভাষ ঘোষের মতো কারবারীদের এই অবাধ বিচরণ এখন খোয়াই পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
