গোপাল সিং, খোয়াই, ১৪ এপ্রিল || মুহরিপুর-বুড়াতলি কেন্দ্রের একটি পোলিং স্টেশনের ইভিএম বহনকারী বাসে বহিরাগত মানুষের উপস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ তিপ্রা মথা পার্টির কর্মী-সমর্থকরা বাসের গতি রোধ করে প্রতিবাদ জানায়। এই প্রতিবাদ চলাকালীন এক টিএসআর জওয়ান কর্তৃক তিপ্রা মথা পার্টির দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা মহিলা নেত্রীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে আজ জেলা পুলিশ সুপারের (SP) দ্বারস্থ হলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা ও নারী নেত্রীরা।
উল্লেখ্য, গত রবিবার ভোট শেষে ইভিএম মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় বাসে কয়েকজন বহিরাগতকে দেখতে পেয়ে প্রতিবাদে সরব হন তিপ্রামথা কর্মীরা। অভিযোগ, সেই সময় তিপ্রামথা পার্টির দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারি সুপ্রিয়া চৌধুরীকে কর্তব্যরত এক টিএসআর জওয়ান সজোরে পদাঘাত করেন এবং লাঠিচার্জ করেন। এই লজ্জাজনক ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।
আজ এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্ত জওয়ানের কঠোর শাস্তির দাবিতে তিপ্রামথা পার্টির পক্ষ থেকে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপারের নিকট এক স্মারকলিপি বা ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন তিপ্রামথা পার্টির বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যান্য নারী নেত্রীরাও।
ডেপুটেশন শেষে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পুলিশ সুপার ঘটনার গুরুত্ব স্বীকার করেছেন এবং অভিযুক্ত টিএসআর জওয়ানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।” আমরা কেবল বিভাগীয় তদন্তে সন্তুষ্ট নই। শীঘ্রই এই অমানবিক ঘটনার বিষয়ে ‘ত্রিপুরা হিউম্যান রাইটস’ বা মানবাধিকার কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে। গণতান্ত্রিক দেশে একজন নারী নেত্রীর ওপর পুলিশের এমন বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আইনগতভাবে শেষ পর্যন্ত লড়ব।”
নির্বাচন পরবর্তী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিপ্রামথা ও প্রশাসনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা নিজেই এই আন্দোলনের সামনে থাকায় বিষয়টি প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ানের বিরুদ্ধে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
