গোপাল সিং, খোয়াই, ২৯ ডিসেম্বর ।। গত ২৩শে ডিসেম্বর। ছিল ত্রিং উৎসব। উপজাতি অংশের মানুষ এই দিনে ত্রিং-মেলা নিয়ে মশগোল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যুবরা। কিন্তু সেদিনই ত্রিং মেলায় এসে স্বজনছাড়া হয়ে পড়ে এক উপজাতি যুবতী। বয়স আনুমানিক ত্রিশের কোঠায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যুবতীটি মূক ও বধির। অনুমান করা হচ্ছে মেলায় ঘুরতে ঘুরতেই যুবতীটি স্বজনদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। তারপরের কাহিনী যদিও এখনও অধরা। ২৮শে ডিসেম্বর গোপালনগর থেকে একজন উপজাতি মহিলা এই মুক ও বধির যুবতীটিকে চাম্পাহাওড় থানায় নিয়ে আসে। সমতি রানী দেববর্মা নামেে ঐ মহিলাই যুবতীটিকে ত্রিং মেলায় একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সেখানে যুবতীটিকে তার নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেও উত্তরে সে কিছুই বলতে পারেনি। কারন যুবতীটি কথা বলতে পারে না। তাই সহৃদয় মহিলা যুবতীটিকে নিজ বাড়ীতে আশ্রয় দেন। আশা ছিল যুবতীর খোঁজে তার অভিভাবক খোঁজ করতে এলে তাকে তাদের হাতে তোলে দেওয়া হবে। কিন্তু মাঝে কেটে গেছে বহুদিন। এবার আর অপেক্ষা না করে সহৃদয় মহিলা যুবতীটিকে চাম্পাহাওড় থানায় নিয়ে আসেন।
থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ যুবতীটির কাছ থেকে কোন তথ্য না পেয়ে যুবতীটিকে মহকুমা শাসকের নিকট নিয়ে যান। যদি যুবতীটির খোঁজ করতে কেউ না আসেন তবে তাকে আগরতলা হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। কেউ যদি এই যুবতীটির পরিচয় জানতে পারেন তবে চাম্পাহাওড় থানায় যোগাযোগ করুন।
খোয়াই মহকুমা শাসক ড. সমিত রায় চৌধূরী ও রাজ্য মহিলা কমিশনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বাকশক্তিহীন উপজাতি মহিলাকে আগরতলা অভয়নগর স্থিত সরকারী হোমে পাঠানো হল মঙ্গলবার। চাম্পাহাওড় থানা থেকে জানা যায়, মহিলাটি চাকমা সম্প্রদায়ের। তিনি নাকি আকার ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন উনার তিন সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে একটি খুবই ছোট। এদিকে খোয়াই মহকুমা শাসক জানান, মহিলার বাড়ী অন্য মহকুমায়। কারন খোয়াইতে কোন চাকমা সম্প্রদায় নেই। তাছাড়া মহিলার স্বামী তাকে মারধর করাতে তিনি বাড়ী থেকে চলে আসেন। তবে মহিলা তার ছোট্ট শিশুর কাছে কত তাড়াতাড়ি পৌছতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।
