করুন অবস্থায় খোয়াই জেলা হাসপাতালের মর্গ

khwগোপাল সিং, খোয়াই, ০৬ জানুয়ারী ।। খোয়াই জেলা হাসপাতালের মর্গ বা লাশ-কাটা ঘর বর্তমানে খুবই করুন অবস্থায় রয়েছে। ১৯৫৪ইং সালে পথচলা শুরু হয়েছিল খোয়াই হাসপাতালের। ৪ঠা জানুয়ারী ১৯৫৪ইং সালে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন চিফ কমিশনার ভি. নানজপ্পা। তখন লাশ-কাটা ঘরের প্রয়োজন হয়নি। ৬০’এর দশকের পর মুহুর্তেই খোয়াই শহরের একটি বেকারির বিস্কুট খেয়ে শতশত মানুষ আক্রান্ত এবং বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হলে, তবেই প্রয়োজন হয় লাশ-কাটা ঘরের। তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিকভাবে নুংরা-পুঁতিময় অবস্থায় ছিল লাশ-কাটা ঘরটি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে খোয়াইবাসীর দাবি মেনে একটি বিজ্ঞানসম্মত মর্গ বা লাশ-কাটা ঘর তৈরী করে দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে। দীর্ঘ ৫০ বছর পর খোয়াইবাসীর দাবি মেনে অতি আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরী করা হয় বর্তমান খোয়াই জেলা হাসপাতালের মর্গ বা লাশ-কাটা ঘরটি। বিদ্যুৎ, এসি, জলের সুবন্দোব্যস্ত, ডেডবডি রাখার জন্য আলাদা আলাদা কক্ষ, চিকিৎসকদের জন্য বসার ব্যবস্থা সহ সব ধরনের সুবিধা এই লাশ-কাটা ঘরে রয়েছে। অথচ একজন রক্ষক নিয়োগ নেই। যা এত্তসব কিছু সুবন্দোব্যস্তর মধ্যে জল ঢেলে দেওয়ার কাজটি করছে। যদিও রক্ষকের অভাব মেটানো হচ্ছে খোয়াই থানার একজনকে দিয়ে। যত পঁচা-গলা এবং নানা ভাবে আসা মৃতদেহ উনাকে দিয়েই আনা হয়। এবং প্রায় সময়ই পোষ্টমর্টেম ইনিই করেন। নামে মাত্র ডাক্তার বাবু থাকেন। এছাড়া পরিচয়বিহীন দেহগুলো ৫-৭ দিন থাকে লাশ-কাটা ঘরের ভেতর। কিন্তু সব ব্যবস্থা থাকলেও পরিষেবা নেই। জল নেই, বিদ্যুৎ নেই, কক্ষগুলো অপরিস্কার, নুংরা-পুঁতিময় অবস্থায়। লাশ-কাটা ঘরের ভেতর পরিষ্কার করার কেউ নেই। অতি সুন্দর লাশ-কাটা ঘর নরক গুলজারে পরিনত।
স্বাভাবতই প্রশ্ন থাকছে, স্বচ্ছ ভারত অভিযান কিসের জন্য? জেলা হাসপাতাল সহ বিস্তীর্ণ এলাকা নুংরা-পুঁতিময় অবস্থায় থাকলেও সেখানে নেই স্বচ্ছ-ভারত অভিযান। অস্বচ্ছতার জ্বলজ্যন্ত উদাহরন হিসাবেই পড়ে রয়েছে লাশ-কাটা ঘরটিও। অথচ সরকার লক্ষ-লক্ষ টাকা খরচ করছে এবং কাগজে-পত্রে খরচ দেখানো হচ্ছে। বাস্তব চিত্র কিন্তু অন্য কথা বলছে। খোয়াই জেলা হাসপাতাল কর্তপক্ষ কোন ভি আই পি আসার গন্ধ পেলেই কিছু স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করা হয়, আর বাকি সময় নাকে হাত দিয়ে বা রুমাল চাপা দিয়েই চলতে হয়।
খোয়াই জেলা হাসপাতালের প্রথম প্রবেশদ্বারে প্রস্রাবাগার এবং শৌচালয়ের দূর্বিসহ দূর্গন্ধে নাজেহাল জনগন। হাসপাতালের ভেতরে আরও করুন দশা। একাংশ কর্মীর বদান্যতায় রাজ্য সরকারের ভাবমূর্ত্তি নষ্ট হচ্ছে, বলছেন জনসাধারন। একমাত্র স্বচ্ছ ভারত অভিযানেই যেখানে নানান বাজেটে বরাদ্দ আসছে লক্ষ লক্ষ টাকা, সেখানে অধিকাংশ অর্থই এডজাষ্টম্যান্টের মাধ্যমে লুটে-পুটে খাওয়া হচ্ছে। সব সুবিধা থেকেও সর্বমুখী সুবিধা থেকে বঞ্চিত খোয়াইয়ের জনসাধারন। এর পেছনে কোন রহস্য লুক্কায়িত রয়েছে তার কোন হদিশ পাচ্ছেন না জনগন। অনেকটা ক্ষোভের সুরেই বলতে শুনা যায়, ‘এ যুগে মরেও শান্তি নেই!’

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*