গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ সেপ্টেম্বর || TTAADC ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ১০৩২৩ শিক্ষক ইস্যু ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। এই ইস্যুতে সরব হলেন তিপ্রা মথা পার্টির বর্ষীয়ান নেতা তথা রামচন্দ্রঘাটের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে রঞ্জিত দেববর্মা দাবি করেছেন, তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সময় একজন প্রবীণ জনজাতি ‘আইন সচিব’-এর ভুল আইনি পরামর্শের কারণেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক চাকরি হারানোর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। তাঁর বক্তব্যে ওই সময়কার সিদ্ধান্ত ও আইনি পরামর্শের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর ২০১০-১৩ সময়কালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ১০৩২৩ শিক্ষক ইস্যু ত্রিপুরার রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।
রঞ্জিত দেববর্মার বক্তব্যে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দাবির প্রসঙ্গও নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁদের প্রশ্ন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক বা আইনি ত্রুটির দায় কেন চাকরিপ্রার্থীদের বহন করতে হবে? দীর্ঘ সময় পরিষেবা দেওয়ার পর চাকরি হারিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে।
বিধায়কের পোস্টে আন্দোলনকারীদের থালা হাতে বিক্ষোভের ছবিও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আবহে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে ‘আইন সচিব’-এর ভুল পরামর্শের কারণে চাকরি হারানোর যে অভিযোগ রঞ্জিত দেববর্মা তুলেছেন, সেটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তৎকালীন কর্মকর্তার বক্তব্য বা পৃথক সরকারি নথি এই প্রতিবেদনের হাতে নেই।
১০৩২৩ শিক্ষক ইস্যু অতীতেও ত্রিপুরার নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
