গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ সেপ্টেম্বর || একজন এসপিও মানে সামান্য বেতনে চাকরী করা একজন পুলিশ কর্মী। যাকে পঁচা-গলা লাশ তুলে আনা থেকে শুরু করে রাজমিস্ত্রির কাজও সময়ে করতে হয়। সর্বহস্তে পারদর্শী এই এসপিওদের বেতন কম হলেও, ডিউটি করতে হয় ১২-১৬ ঘন্টা। যিনি এতদিন এভাবেই অন ডিউটিতে থেকে সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে সবার আগে ছুটে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আজ তিনি নিজেই মরণব্যাধির সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। অথচ জীবন-মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক মানবিকতার চিত্রটি অত্যন্ত করুণ ও হতাশাজনক। খোয়াই গণকি পুলিশ লাইনে কর্মরত স্পেশাল পুলিশ অফিসার (SPO-240) সমরজিৎ দেববর্মার অর্থাভাবে থমকে থাকা দেড় লাখ টাকার চিকিৎসার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অফিসিয়াল বার্তা জারি করা সত্ত্বেও যে পরিমাণ অর্থ সংগৃহীত হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
চেবরী গ্রামের বাসিন্দা এই নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মী বিগত ৩ বছর ধরে কিডনির মারাত্মক জটিলতায় আক্রান্ত। একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও বর্তমানে তাঁর ডান কিডনির কার্যক্ষমতা নেমে এসেছে মাত্র ২৩ শতাংশে। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে ডান কিডনি অপসারণ বা ‘নেফ্রেক্টোমি’ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১,৫০,০০০ (দেড় লক্ষ) টাকা। গত ২১শে আগস্ট ২০২৬ তারিখে খোয়াই ডিআইবি-র ডিএসপি-র স্বাক্ষরিত স্মারকে জেলার সমস্ত এসডিপিও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্রাফিক ইউনিট এবং অন্যান্য সেকশনে স্বেচ্ছায় অনুদান সংগ্রহের জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সহকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মীদের কাছ থেকে যে সাড়া মিলেছে, তা চিকিৎসার খরচের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
মাত্র ১১,৮৫০ টাকার সামান্য বেতনে সংসার চালানো, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও সন্তানদের সামলে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা সমরজিতের পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ বিভাগের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হতাশ হয়ে এবার তিনি সরাসরি রাজ্য সরকার, খোয়াই জেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের জরুরি আর্থিক হস্তক্ষেপের আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যাতে এক সরকারি কর্মীকে অকাল মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
