বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ১৭ সেপ্টেম্বর || দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার সমরেন্দ্রগঞ্জ সৎসঙ্গ কেন্দ্রে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হলো পরমপ্রেমময় ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র দেবের ১৩৯তম বাৎসরিক উৎসব।
এই উপলক্ষে সকাল থেকেই সৎসঙ্গ প্রাঙ্গণে ভক্ত ও অনুরাগীদের সমাগম লক্ষ্য করা যায়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও ভক্তিমূলক পরিবেশে দিনভর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে সমগ্র সৎসঙ্গ প্রাঙ্গণ।
ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র দেবের আদর্শ, মানবকল্যাণের বার্তা এবং তাঁর দেখানো পথে জীবন পরিচালনার গুরুত্ব নিয়ে এদিন ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আলোচনা হয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দিনভর চলে আনন্দ কীর্তন। কীর্তনের সুরে একাত্ম হয়ে ভক্তরা ভক্তি ও আনন্দে মেতে ওঠেন।
শুধু সৎসঙ্গের সদস্য বা ভক্তরাই নন, এলাকার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের উপস্থিতিতে উৎসবের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
উৎসব উপলক্ষে ভক্তদের জন্য আয়োজন করা হয় মহাপ্রসাদের। ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে বহু ভক্ত ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন।
এই বাৎসরিক উৎসবকে কেন্দ্র করে সমরেন্দ্রগঞ্জ এলাকায় তৈরি হয় এক সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় আবহ। ভক্তি, প্রার্থনা, কীর্তন এবং মানুষের মিলন—সব মিলিয়ে দিনভর উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো।
আয়োজকদের বক্তব্য, ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র দেবের আদর্শ ও মানবকল্যাণের বাণী মানুষের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিকতার পথ দেখায়। সেই আদর্শকে সামনে রেখেই প্রতিবছর এই বাৎসরিক উৎসবের আয়োজন করা হয়।
সমরেন্দ্রগঞ্জ সৎসঙ্গ কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা জানান, আগামী দিনেও ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র দেবের আদর্শকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দিতে এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র দেবের ১৩৯তম বাৎসরিক উৎসবকে ঘিরে সমরেন্দ্রগঞ্জ সৎসঙ্গ কেন্দ্রে দেখা গেল ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও মিলনমেলার এক সুন্দর চিত্র।
