আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৩ নভেম্বর || ত্রিপুরার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে আবারো এক নতুন নাম যোগ হলো ‘না নয় নারী’। বিশ্বজিৎ দাস পরিচালিত এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিটি আগামী ৫ই নভেম্বর ‘My Cinema Hall’ অ্যাপসে মুক্তি পেতে চলেছে। ছবিতে অভিনয় করেছেন সতীর্থা দেবনাথ, ইমরান খান, সৌরজিৎ আচার্য্য, জয়ন্ত দাস, কণিকা চক্রবর্তী সহ আরো অনেকে। ত্রিপুরার কলাকুশলীদের নিয়েই তৈরি হয়েছে এই ছবিটি। ছবিটির পূর্ণতা প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পরিচালক বিশ্বজিৎ দাস জানান, সেপ্টেম্বর মাস থেকেই শুরু হয়েছিল অডিশন প্রক্রিয়া। শিল্পী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর ওদের প্রায় এক মাস রিহার্সাল করানো হয় পুরো কাহিনীর উপর।তারপর মাঠে নামে পুরো টিম। খুবই সুন্দর নতুন গল্প, অসাধারন স্ক্রিনপ্লে ও নির্দেশনা সমন্বিত এই সিনেমা নিশ্চয়ই দর্শক মনে জায়গা করে নেবে বলে পুরো টিমের বিশ্বাস। পরিচালক বিশ্বজিৎ দাস এর আগেও কয়েকটি শর্ট ফিল্ম ও ফিচার ফিল্ম-এ কাজ করেছেন।সাম্প্রতিককালে ‘না নয় নারী’ ছবিটি INDEPENDENT ASIA PACIFIC INTERNATIONAL FILM FESTIVAL এ নোমিনেটেড হয়েছে এবং এই ছবি থেকে অভিনেতা সৌরজিৎ আচার্য্য সেরা নেগেটিভ রোলের জন্য পুরস্কৃতও হয়েছেন। ছবিটিকে জাতীয় স্তরে উন্নীত করার জন্য অনেক নিদ্রাহীন রাত কাটিয়েছেন এবং কঠোর পরিশ্রম করেছেন সবাই। এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন অভিনেতা ইমরান খান।
ছবিটির বিষয়বস্তু হলো না শব্দটি নারীর জন্য নয়। আজকাল নারীরা যে কোনো কাজ করতে পারে। কোনো অংশেই কম নয় নারীরা। একজন নারী যেমন তার কোমল হাত দিয়ে ভালোবাসার পরশ জাগাতে পারে, ঠিক তেমনি সেই হাত দিয়ে নররূপী অসুরদের ও দমন করতে পারে। নারী শুধু ভালোবাসার জন্য, জানার জন্য নয়। এটিই মূল বিষয়বস্তু এই ছবিটির। সামাজিক সচেতনতার এক অপূর্ব নিদর্শনও এই ছবিটির মধ্যে পাওয়া যাবে।ত্রিপুরার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে এই সিনেমার শুটিং কার্য সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। ত্রিপুরায় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পরিচালক বিশ্বজিৎ দাস জানান, আমাদের এই ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরায় বাণিজ্যিকভাবে ছবি করতে অনেক অন্তরায় রয়েছে, যার ফলে কেউ এগোতে চায় না এসব কাজে। এই রাজ্যে কোনো এন্টারটেইনমেন্ট টিভি চ্যানেল নেই যেখানে সিরিয়াল, নাটক বা মিউজিক ভিডিও প্রদর্শিত হতে পারে এবং ত্রিপুরার কলাকুশলীরা এই সাংস্কৃতিক কাজে নিয়োজিত থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করে। সমস্ত মহকুমা গুলোতে সিনেমা হল নেই যেখান থেকে ছবি নির্মাতা অর্থ উপার্জন করতে পারে। যার ফলে একটি ভালো বাজেটের গুণসম্পন্ন ছবি তৈরিতে সাহস পান না নির্মাতারা। যা কিছু ছবি হচ্ছে তা সব কটাই পরিচালক ও নির্মাতার নিজস্ব প্রচেষ্টায় হচ্ছে। শ্রী দাস আরো বলেছেন, যে ত্রিপুরায় প্রতিভাবান শিল্পীর অভাব নেই, শুধু তাদের একটি সুযোগ দরকার হয় নিজেকে তুলে ধরার। BARSHA PRODUCTION সেই কাজটাই করার চেষ্টা করেছে। ছবিটি দর্শকের মনে জায়গা করতে পারলে এবং My Cinema Hall apps এ বাণিজ্যিক ভাবে সফল হলেই এই সিনেমার শিল্পীরা উৎসাহ পাবে ভবিষ্যতে ত্রিপুরবাসীকে আরো নতুন কিছু উপহার দেওয়ার।
