গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ সেপ্টেম্বর || ত্রিপুরাজুড়ে সক্রিয় বাইক চুরি চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল কল্যাণপুর থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ওত পেতে রাজ্যের অন্যতম চিহ্নিত বাইক চোর সুমন দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কল্যাণপুর থানার ওসি আশীষ সরকারের নেতৃত্বাধীন বিশেষ পুলিশ টিম এই অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনসিসি থানার একটি মামলায় ওয়ান্টেড ছিল সুমন দাস। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে বাইক চুরি-সহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। একটি হত্যাকাণ্ডের মামলাতেও তার নাম জড়িয়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সুমন দাস গত ২–৩ বছরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাইক চুরি করার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে এনসিসি ও পূর্ব আগরতলা থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে চোরাই বাইক পাচারের একটি বড় চক্রেরও তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশের দাবি। ধৃতের বয়ান অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করা বাইক মধুপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে ফারুক মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বাইক তুলে দিলে প্রতিটি বাইকের জন্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যেত বলে ধৃত পুলিশকে জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, মধুপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে চোরাই বাইক বাংলাদেশে পাচারের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। ধৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
কল্যাণপুর থানার ওসি আশীষ সরকার জানান, ধৃত সুমন দাসকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে চোরাই বাইক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপুরাজুড়ে সক্রিয় বাইক চুরি ও সীমান্তপারের পাচারচক্রের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
