আপডেট প্রতিনিধি, সোনামুড়া, ১৯ সেপ্টেম্বর || প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধনপুর বিধানসভা এলাকার ইন্দুরিয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও নিখোঁজ নাবালিকার কোনও সন্ধান মেলেনি। ফলে সে আদৌ নিরাপদে রয়েছে কি না, তা নিয়েও গভীর উদ্বেগে রয়েছে পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে সোনামুড়া এলাকার এক ব্যক্তি এবং বিহারের বাসিন্দা অপর এক ব্যক্তির যোগসূত্র রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
নিখোঁজ নাবালিকার পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করা হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁরা কোনও সন্তোষজনক আশ্বাস পাননি। এক মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও নাবালিকার সন্ধান না মেলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করার দাবি জানানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও নাবালিকাদের প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একাধিক নাবালিকাকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির মধ্যে পূর্বপরিচয় রয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নাবালিকাদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও উঠেছে। নিখোঁজ নাবালিকাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা রয়েছে বলে পরিবারের সন্দেহ।
এদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে নিখোঁজের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের একজন বর্তমানে রাজ্যের বাইরে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছেন বলে তাঁদের আশঙ্কা। এই দাবিরও তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পরিবার।
দীর্ঘ সময় ধরে নাবালিকার সন্ধান না মেলায় স্বাভাবিকভাবেই উৎকণ্ঠা বাড়ছে পরিবারের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, নাবালিকাকে কোথাও পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পরিবারের হাতে নেই।
পরিবারের পক্ষ থেকে রাজ্য প্রশাসন ও সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। নিখোঁজ নাবালিকাকে অতি দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগে উঠে আসা ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য কী, নাবালিকা বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে নিখোঁজ নাবালিকার পরিবার।
