বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ২০ সেপ্টেম্বর || আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে রবিবার সাব্রুমে বিশেষ ফ্ল্যাগ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন মনুবনকুল মহামুনি এলাকা থেকে ফ্ল্যাগ মার্চ শুরু হয়ে বটতলা বাজার পর্যন্ত যায়। দীর্ঘ পথজুড়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি করাই এই ফ্ল্যাগ মার্চের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে।
ফ্ল্যাগ মার্চে নেতৃত্ব দেন সাব্রুমের এসডিপিও দীপ্তনু বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাব্রুম থানার ওসি অপু দাস, মনু থানার ওসি সঞ্জীব দেববর্মা এবং এসএসবি আলফা টিমের সদস্যরা। পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
মনুবনকুল মহামুনি এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও জনবহুল এলাকা অতিক্রম করে বটতলা বাজার পর্যন্ত এই ফ্ল্যাগ মার্চ পরিচালিত হয়। পথে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা বাহিনীর এই উপস্থিতি নজর কাড়ে।
আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। বিশেষ করে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করাও প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
নির্বাচনের সময় ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং কোনো ধরনের ভয় বা চাপ ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেই বার্তাই ফ্ল্যাগ মার্চের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর এই যৌথ ফ্ল্যাগ মার্চকে ঘিরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া লক্ষ্য করা যায়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অনেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপ প্রত্যক্ষ করেন।
উল্লেখ্য, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।
সাব্রুমে পুলিশের নেতৃত্বে এই ফ্ল্যাগ মার্চের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতির ছবি সামনে এসেছে, তেমনি অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
