গোপাল সিং, খোয়াই, ০৫ নভেম্বর || আসন্ন খোয়াই পুর পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রার্থীর প্রস্তাবকদের উপর একের পর এক হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং শারীরিক নির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ তুলে আজ রিটার্নিং অফিসার (মহকুমাশাসক, খোয়াই)-এর নিকট এক জরুরি ডেপুটেশন প্রদান করল সিপিআই(এম) খোয়াই মহকুমা কমিটি। আজ সিপিআই(এম) বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস, ডিওয়াইএফআই রাজ্য নেতৃত্ব পলাশ ভৌমিক, সিপিআই(এম) নেতা কানন দত্ত সহ অন্যান্যরা প্রতিনিধি দলে ছিলেন। বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস গোটা ঘটনা তুলে ধরে বিস্তারিত মিডিয়াকে অবহিত করতে গিয়ে বলেন, গত ২রা নভেম্বর শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বাধার মুখে প্রথম দফায় বাম প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে ব্যর্থ হলেও, পরবর্তীতে ওই দিনই ১৩ জন এবং পরদিন বাকি ২ জন প্রার্থী সফলভাবে মনোনয়ন দাখিল করেন। একই দিন (২রা নভেম্বর) গভীর রাতে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআই(এম) প্রার্থীর প্রস্তাবক রতন দাস এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থীর প্রস্তাবক কার্তিক ঘোষের লালছড়াস্থিত বাড়িতে শাসকদলের দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। এই হামলায় রতন দাস, শিক্ষা দপ্তরের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মহাদেব ঘোষ (কার্তিক ঘোষের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা) এবং ৮৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাতা গুরুতর আহত হন এবং তাদের বাড়িঘরের সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়। গত ৪ঠা নভেম্বর রাতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থীর প্রস্তাবক কানাই পাল এবং তাঁর স্ত্রীর উপর তাঁদের নিজ বাড়িতে ঢুকে দুষ্কৃতীরা নির্মম হামলা চালায়। গুরুতর আহত কানাই পালকে প্রথমে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানের জন্য তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে আগরতলায় স্থানান্তরিত করতে হয়েছে।
উনার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ভোটার, প্রার্থী ও প্রস্তাবকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করতেই পরিকল্পিতভাবে এই অরাজকতা চালানো হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে রিটার্নিং অফিসারের কাছে তারা মূলত দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন, এক—খোয়াই পুর এলাকায় প্রার্থী, প্রস্তাবক এবং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ প্রদান এবং দুই— অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে খোয়াই পুর পরিষদের সমস্ত সংবেদনশীল এলাকায় অবিলম্বে ২৪x৭ ফিক্সড পুলিশ/টিএসআর (TSR) বা উপযুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর পিকের্ট বসানো।
এই স্মারকলিপির অনুলিপি জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিএম ও কালেক্টর) এবং খোয়াই জেলার পুলিশ সুপারকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
