তেলিয়ামুড়ায় বিজেপির শক্তি প্রদর্শন, সুবিশাল র‍্যালির মাধ্যমে ১৫টি ওয়ার্ডেই মনোনয়নপত্র জমা

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০৫ নভেম্বর || আসন্ন তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরকদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করল ভারতীয় জনতা পার্টি। বৃহস্পতিবার তেলিয়ামুড়া শহরে সুবিশাল র‍্যালির মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দিয়ে পুর পরিষদের ১৫টি ওয়ার্ডেই মনোনয়নপত্র জমা দিল বিজেপি। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। পরে তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তীর কাছে দলের ১৫ জন মনোনীত প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতৃত্ব জানান, আগামী ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পুর পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রদেশ কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের সমস্ত স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এদিন ১৫টি ওয়ার্ডেই প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনে উন্নয়নকেই প্রধান হাতিয়ার করে মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভারতীয় জনতা পার্টি বরাবরই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে এসেছে। বিগত দিনের উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি বর্তমানে যে সমস্ত প্রকল্প ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, সেগুলিও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে উন্নয়নের চিত্র ইতিমধ্যেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত রাস্তাঘাট ও অন্যান্য পরিকাঠামোর অতীত এবং বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করলেই উন্নয়নের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে বলে দাবি করেন তাঁরা। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখেই তেলিয়ামুড়ার ১৫টি ওয়ার্ডে বিজেপি ব্যাপক ব্যবধানে জয়লাভ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন দলীয় নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, সিপিআইএমের সমর্থন ও রাজনৈতিক অক্সিজেন নিয়েই কংগ্রেস বর্তমানে টিকে রয়েছে। দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি নতুন নয়, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই তা প্রকাশ্যে এসেছিল বলে দাবি করেন তাঁরা। পাশাপাশি বিরোধীদের প্রার্থী তালিকা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, কংগ্রেস বর্তমানে অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে এবং সারা দেশেই দলটির সাংগঠনিক শক্তি ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।
বিজেপি নেতৃত্ব আরও দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ পরিবর্তিত হচ্ছে। দিল্লিতে কংগ্রেসের এক কর্মসূচির পর ১২ জন বিধায়কের বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গ টেনে তাঁরা বিরোধী শিবিরের সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সবশেষে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএম ও কংগ্রেসের অঘোষিত রাজনৈতিক সমঝোতা যেভাবে নির্বাচনী সাফল্য পায়নি, তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদ নির্বাচনেও বিরোধীদের একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এখন দেখার, বিজেপির এই শক্তি প্রদর্শন ও উন্নয়নের প্রচার নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে এবং ভোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল কতটা জনসমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*