আধার কার্ড করা নিয়ে কল্যাণপুরে উত্তেজনাকর পরিবেশ, পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্লক চেয়ারম্যান

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৮ এপ্রিল || সম্প্রতি গোটা ত্রিপুরা রাজ্যে রেশন শপের ভোক্তা যারা রয়েছেন তাদের আধার কার্ডের সাথে লিংক করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে। একই ছবি কল্যাণপুর ব্লকের অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভিলেজ কাউন্সিল এর মধ্যে অবস্থিত রেশন শপ গুলোতে। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সের ভোক্তারা রেশন শপে গিয়ে লাইন দিয়ে সরকারের এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যাদের আধার কার্ড সঠিক নেই বা যাদের আধার কার্ড আপডেট করা হয়নি তারা কোনোভাবেই রেশন শপে গিয়ে লিংক করাতে পারছেন না। এই সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যে তারা প্রায়ই যেখানে যেখানে আধার কার্ড করা হয় সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। এরকমই একটা আধার কার্ডের সেন্টার রয়েছে কল্যাণপুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এর অফিসে।
সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সের সাধারণ মানুষরা ব্লক এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আধার কার্ড’র সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সেন্টারে ভিড় জমাতে শুরু করেন প্রতিদিনের মতো। একটা সময়ে এই ভিড় চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়, প্রতিদিন আধার কার্ড করতে এসে এক প্রকার হয়রানির শিকার হয়ে সাধারণ মানুষরা অনেকটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক হলে খবর যায় ব্লক চেয়ারম্যানের কানে।
এরপর কাল বিলম্ব না করে এই সমস্যার সমাধানে ময়দানে অবতীর্ণ হন চেয়ারম্যান নিজে। তিনি এখানে সমবেত সাধারণ মানুষ যারা আছে তাদের সাথে কথা বলেন এবং যিনি আধার কার্ড বিতরণের কাজে যুক্ত আছেন সেই বেসরকারি সংস্থার কর্মীর সাথেও কথা বলেন।
এরপর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির হল ঘরে সমস্ত অংশের যারা ছিলেন তাদেরকে ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যান তাদের সাথে কথা বলে এই সমস্যার সমাধানের জন্য একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখন থেকে যারা যারা আধার কার্ড করার জন্য বা আধার কার্ড আপডেট করানোর জন্য নির্ধারিত ফরম জমা দেবেন তাদের জমাকৃত ফরমের ক্রমিক নম্বর ধার্য করে ওই ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত কর্মী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফোন করে জানালে তিনি এসে আধার কার্ড নিয়ে যাবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সমস্যার আপাত সমাধান হলো বলা চলে।
এদিন ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন সৌমেন ঘোষের এই যথোপযুক্ত ভূমিকা গ্রহণের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষরা আধার কার্ড করার হয়রানি থেকে অনেকটাই নিজেদেরকে রক্ষা করতে পেরেছেন ঠিক অন্যদিকে একটা বড়সড় অনভিপ্রেত ঘটনা এড়ানো গেছে বলা চলে। সেই সাথে সাথে ব্লক চেয়ারম্যান সাধারণ মানুষদেরকে অযথা বেশি টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড না করার জন্য অনুরোধ করেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*