সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০৬ অক্টোবর ৷। শহরাঞ্চলে নেশা বিরোধী অভিযান চললেও গ্রামাঞ্চল গুলিতে কিন্তু নেশা বিরোধী অভিযান চলে না। যার ফলস্বরূপ মদমত্ত পিতার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তেলিয়ামুড়া থানাধীন পূর্ব হাওয়াই বাড়ি নাথ পাড়া এলাকার ১৭ বছরের এক নাবালক যুবক সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির সকলের নজর এড়িয়ে বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল। অভিযোগের তীর মদমত্ত পিতার বিরুদ্ধে।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তেলিয়ামুড়া থানাধীন পূর্ব হাওয়াই বাড়ির নাথ পাড়া এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দাস প্রায়শই মদমত্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে ছেলে প্রসেনজিৎ দাসকে (১৭) মারধর এবং বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করতো। পরিবারে নিত্যদিনই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত এমনই অভিযোগ মৃত নাবালক যুবকের পরিবারের লোকজনের।
অন্যান্য দিনের মতো প্রসেনজিৎ এর পিতা বিশ্বজিৎ মদমত্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে এসে প্রসেনজিৎ এর মায়ের সাথে কোন এক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু করে। এমন সময় ছেলে প্রসেনজিৎ বাজার থেকে বাড়ি আসে। বাড়ি এসে কথা কাটাকাটি এবং ঝগড়া-বিবাদ শুনে মা-বাবা উভয়কে বলে শান্ত হওয়ার জন্য। কিন্তু পিতা বিশ্বজিৎ ছেলে প্রসেনজিতের কথা কোনো কর্ণপাত করলো না। ফলে প্রসেনজিৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে বাড়ির পাশের এক নির্জন জায়গায় বাড়ির সকলের অলক্ষ্যে নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল। জানা যায়, প্রসেনজিৎ এবছর একাদশ শ্রেণির ছাত্র। প্রসেনজিতের বাবা বিশ্বজিৎ সোমবার সকাল থেকেই মদমত্ত অবস্থায় বাড়িতে তার মায়ের সাথে বাজে ব্যবহার এবং ঝগড়াঝাঁটি করছিল, এমনটাই জানালেন প্রসেনজিতের এক নিকট আত্মীয়।
মঙ্গলবার সকালে প্রসেনজিতের ঝুলন্ত মৃতদেহ এলাকার লোকজন দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকজনদের খবর দিলে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে প্রত্যক্ষ করে প্রসেনজিতের ঝুলন্ত মৃতদেহ। খবর যায় তেলিয়ামুড়া থানায়। ঘটনা শুনে ছুটে আসে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য।
