গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ নভেম্বর || নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে আবারও দৃঢ় পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে কলমচৌড়া থানার উদ্যোগে পরিচালিত হয় এক বিশাল গাঁজা বিরোধী অভিযান। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর অরুপ দেববর্মার নেতৃত্বে টিএসআর বাহিনী, সিআরপিএফ জওয়ান ও বনদপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয় দক্ষিণ কলমচৌড়া এলাকার বনদপ্তরের টিলা অঞ্চলে।
সূত্রে জানা যায়, সকাল ঠিক ৭টা নাগাদ শুরু হয় অভিযানটি, যা টানা চলে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। পুরো অভিযানে উপস্থিত ছিলেন টিএসআর বাহিনীর একাধিক সদস্য, সিআরপিএফ জওয়ান ও বনদপ্তরের কর্মীরা। নেতৃত্বে ছিলেন ইন্সপেক্টর অরুপ দেববর্মা, অসিম ভৌমিক ও বেনু দেবনাথ।
অভিযান শেষে ইন্সপেক্টর অরুপ দেববর্মা জানান, আজকের অভিযানে প্রায় ৭ থেকে ৮টি আলাদা প্লটে মোট ৭২ হাজার অবৈধ গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই — নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠন করা। সমাজে যারা গাঁজা চাষের মাধ্যমে নেশার জাল বিস্তার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও এমন কঠোর অভিযান চলবে।”
প্রসঙ্গত, এর ঠিক একদিন আগেই প্রশাসনিক কারণে কলমচৌড়া থানার পূর্বতন ওসিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পুলিশের এমন সাহসী পদক্ষেপ শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে না, পাশাপাশি নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতেও সহায়ক হচ্ছে।
বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, “বনাঞ্চলে অবৈধভাবে গাঁজা চাষ শুধু সমাজের জন্য ক্ষতিকর নয়, পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট করছে। তাই এই প্রবণতা রুখতে আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
কলমচৌড়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও গাঁজা ও অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশের এই পদক্ষেপে স্থানীয় মানুষ, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন প্রশাসনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযান রাজ্যের যুবসমাজকে নেশার গ্রাস থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখবে। কলমচৌড়ার এই অভিযান নিঃসন্দেহে রাজ্যের নেশা বিরোধী লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।
