গোপাল সিং, খোয়াই, ৩১ মে || জনগণের মতে, পরকীয়া আজ ত্রিপুরা রাজ্যে এক মারাত্মক সামাজিক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশ্বাসের অভাবে ভেঙে খানখান হয়ে যাচ্ছে একেকটি সাজানো সংসার। আর এই বেনামী সম্পর্কের টানাপোড়েনে পড়ে সবচেয়ে বেশি খেসারত দিতে হচ্ছে অবুঝ শিশুদের। জনগণের আরও অভিমত, মা-বাবার নিজস্ব স্বার্থ ও সাময়িক মোহের কারণে প্রকৃত অভিভাবকের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।
এমনই এক সামাজিক অবক্ষয়ের চরম চিত্র ফের সামনে এলো খোয়াইয়ের চেবরী এলাকায়। ৬ বছরের এক শিশুপুত্রকে সাথে নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গেলেন এক গৃহবধূ। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, খোয়াই জেলার চেবরী অফিসটিলা এলাকার বাসিন্দা অসিত সূত্রধরের স্ত্রী শম্পা সরকার গত ২৯ তারিখ সকাল বেলা আচমকাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি নিজের ৬ বছরের নাবালক ছেলেকেও সাথে করে নিয়ে যান। অসহায় স্বামী অসিত বাবুর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী মোবাইলের মাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরে অন্য একটি ছেলের সাথে যোগাযোগে ছিলো এবং সুযোগ বুঝে হয়তো সেই প্রেমিকের সাথেই ঘর ছেড়েছেন। চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে স্ত্রীর কোনো সন্ধান না পেয়ে অবশেষে খোয়াই মহিলা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন স্বামী। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশের তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক খবর না পেয়ে আজ নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সামনে অশ্রুসজল চোখে অসিত বাবু জানান, তাঁর স্ত্রী যদি প্রেমিকের সাথে নতুন করে সংসার করতে চান, তাতে তাঁর কোনো আপত্তি বা বাধা নেই। কিন্তু তাঁর একমাত্র আকুল আবেদন—৬ বছরের অবুঝ সন্তানটিকে যেন তাঁর বাবার বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মায়ের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে নিষ্পাপ শিশুটির ভবিষ্যৎ যেভাবে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন সকলে।
স্থানীয় জনগণের মতে, প্রতিদিন ত্রিপুরায় এই ধরনের যে সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনা ঘটছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশুদের মানসিক ও সামাজিক ভবিষ্যতের ওপর। আজ যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে পরিবারগুলোকে ধ্বংস করছেন, আগামীদিনে হয়তো এই নতুন প্রজন্মের কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েই আজকের বাবা-মায়েদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
