রিমান্ডের ২য় দিন ধৃত শিক্ষক কার্তিককে জেরা করে পুলিশের ম্যারাথন দৌড়ঝাঁপ, জেরক্স দোকানে হানা দিয়েও রহস্যজনক নীরবতা পুলিশ প্রশাসনের

গোপাল সিং, খোয়াই, ৩১ মে || জাল নোট এবং নেশা সামগ্রী পাচার চক্রের সাথে যুক্ত ধৃত শিক্ষক কার্তিক দেবনাথকে পুলিশি রিমান্ডে নেওয়ার পর খোয়াই ও কল্যাণপুর জুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশের ম্যারাথন দৌড়ঝাঁপ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তদন্তের স্বার্থে আজ খোয়াইতে একটি জেরক্সের দোকানেও অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। এই তল্লাশি অভিযানের পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই আন্তর্জাতিক মানের জাল নোট ও মাদক চক্রের সুতো ছড়িয়ে রয়েছে খোয়াই বনকর এলাকার এক দাগী নেশা কারবারীর সাথে। পুলিশ ধীরগতিতে হলেও এই চক্রের জট খুলতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই খোয়াইয়ের এই অন্ধকার জগতের বহু রাঘববোয়াল পুলিশের খাঁচায় বন্দি হতে চলেছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছে পুলিশ প্রশাসন।
জনসাধারণের অভিযোগ, পেশায় শিক্ষক কার্তিক দেবনাথকে রিমান্ডে নেওয়ার পর দ্বিতীয় দিনে ময়দানে নামে পুলিশ। মাঝখানের এই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জালনোট ও মাদক কারবারীদের বড় একটি অংশ অধিকাংশ তথ্য-প্রমাণ লোপাট করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ধৃত শিক্ষক অত্যন্ত চতুরতার সাথে তার মোবাইল থেকে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর ইতিমধ্যেই মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি পুলিশের নজর এড়াতে মোবাইলের অবৈধ নম্বরগুলো আসল নামের বদলে ভিন্ন নামে সেভ করে রেখেছিল কার্তিক। ফলে তদন্তের প্রাথমিক স্তরে পুলিশকে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে সচেতন মহলের অভিমত, মুছে ফেলা নম্বরগুলো পুলিশের সাইবার সেল চাইলেই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করতে পারবে। আর তদন্ত প্রক্রিয়া যদি সঠিক গতিতে এগোয়, তবে এই চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে পুলিশের খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়।
এদিকে পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানের খবর চাউর হতেই জেলা জুড়ে জালনোট ও মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ যে জেরক্সের দোকানে পুলিশ হানা দিয়েছিল, স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, সেখান থেকেই নিখুঁতভাবে জাল নোট প্রিন্ট করা হতো। কিন্তু জনগণের একাংশের অভিযোগ, এই জেরক্স দোকানের বিষয়টি রহস্যজনকভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ধৃত শিক্ষকের কাছ থেকে যে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছিল, তার মূল সরবরাহকারী চক্রটি বনকর এলাকা থেকেই পরিচালিত হতো বলে নিশ্চিত খবর মিলছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭শে মে গোয়েন্দা বিভাগ, জেলা পুলিশের সিভিল টিম, কল্যাণপুর থানা, খোয়াই থানা এবং সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির এক যৌথ অভিযানে খোয়াই থানার অধীন মহাদেবটিলা এলাকা থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় শিক্ষক কার্তিক দেবনাথকে। তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে মোট ১৩,৪০০ টাকার নিখুঁত ভারতীয় জাল নোট (FICN) উদ্ধার হয়। যার মধ্যে ৫০০ টাকার নোট ১৮টি, ২০০ টাকার নোট ১২টি এবং ১০০ টাকার নোট ২০টি ছিল। একই সাথে উদ্ধার হয় খুচরো বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা নিষিদ্ধ মাদক ট্যাবলেট। এখন দেখার, এই কুখ্যাত শিক্ষককে জেরা করে পুলিশ খোয়াইয়ের অন্ধকার জগতের মূল হোতাদের কত দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*