গোপাল সিং, খোয়াই, ৩০ মে || ত্রিপুরায় চিটফান্ড তথা বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারির তদন্তে এক বিরাট ও ঐতিহাসিক সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। রাজ্যে প্রায় ৫.৫ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ‘প্রগতিশীল ইনফা প্রোজেক্টস সার্ভিস লিমিটেড’ (PIPSL) চিটফান্ড কোম্পানির তিন শীর্ষ কর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কঠোর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল ত্রিপুরার বিশেষ সিবিআই আদালত। গরিব ও মধ্যবিত্ত আমানতকারীদের টাকা আত্মসাৎ করার দীর্ঘ শুনানির পর আদালতের এই রায়ে ব্যাপক স্বস্তি মিলেছে প্রতারিত সাধারণ জনগণের মধ্যে।
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ‘প্রগতিশীল ইনফা প্রোজেক্টস সার্ভিস লিমিটেড’ নামক এই চিটফান্ড সংস্থার তিন কর্মকর্তা হলেন— অরিন্দম দাস, দ্বীপশিখা দাস চক্রবর্তী এবং পরিতোষ দাস। অভিযোগ ছিল, এই তিন প্রতারক অধিক মুনাফা এবং চড়া সুদের লোভ দেখিয়ে ত্রিপুরার হাজার হাজার নিরীহ ও গরিব মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বাজার থেকে বেআইনিভাবে সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও আমানতকারীদের আসল ও সুদের টাকা ফেরত না দিয়ে রাতারাতি অফিস গুটিয়ে কোটি কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দেয় এই চক্রটি। রাজ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হওয়ার পর, উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের ভার নেয় সিবিআই।
সিবিআই-এর বিশেষ টিম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত চালিয়ে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও নথি সংগ্রহ করে আদালতে চার্জশিট পেশ করে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এবং দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে ত্রিপুরার বিশেষ সিবিআই আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এই তিন সংস্থাকর্তাকেই দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত ধৃতদের একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদের মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
আইনজীবী ও সচেতন মহলের মতে, ত্রিপুরায় চিটফান্ডের জাল বিছিয়ে যেভাবে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা লুঠ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সিবিআই আদালতের এই রায় এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই রায় আগামীদিনে অন্যান্য আর্থিক প্রতারণা ও চিটফান্ড মামলার তদন্ত এবং সাজার প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় এবং সাজাপ্রাপ্তদের অনতিবিলম্বে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
