অক্টোবরে শেষ হবে স্মার্ট মিটার স্থাপন, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়নের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন: মন্ত্রী রতন লাল নাথ

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ মে || ত্রিপুরার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে তুলতে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যজুড়ে স্মার্ট মিটার স্থাপনের কাজও চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
রবিবার রাজ্য অতিথিশালায় কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ, আবাসন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর এবং মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা-র উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ৫৪২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে রাজ্যের নিজস্ব উৎপাদন ও প্রাপ্যতা ৩৬৫ মেগাওয়াট। অবশিষ্ট ১৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্রাপ্যতায় কিছুটা প্রভাব পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ২০১৮ সালে যেখানে এটিএসসি (AT&C) লস ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ, বর্তমানে তা কমে ১৮.২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে রাজ্যের সমস্ত ১১ কেভি ফিডার এবং ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারে স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৫৮ জন গ্রাহক স্মার্ট মিটারের আওতায় এসেছেন। বাকি ২ লক্ষ ১৬ হাজার ১৪৪ জন গ্রাহককে অক্টোবরের মধ্যে এই পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারি দফতরগুলিতে ইতিমধ্যে ৫ হাজার ৮৯৪টি প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৩৪৭টি স্ট্যান্ড-অ্যালোন প্রিপেইড মিটার চালু রয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, দেশজুড়ে প্রথমবারের মতো ত্রিপুরাতেই বৃহৎ পরিসরে এই ধরনের প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ১৩টি স্ট্যান্ড-অ্যালোন প্রিপেইড মিটার বসানো হয়েছে।
রতন লাল নাথ জানান, রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম (আরডিএসএস)-এর আওতায় লস রিডাকশন সংক্রান্ত কাজের ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ জুলাই মাসের মধ্যে শেষ হবে। পিএম-জনমন প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে ধরতি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং জুন মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে।
এডিবি-র সহায়তায় চলমান বিদ্যুৎ বিতরণ শক্তিশালীকরণ প্রকল্পও জুনের মধ্যেই সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। পাশাপাশি ১,৩২০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে রুখিয়ার ৬৩ মেগাওয়াট ওপেন সাইকেল গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রকে ১২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাস টারবাইনে রূপান্তরের কাজ চলছে। এই প্রকল্প ২০২৯ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর মুক্ত বিদ্যুৎ যোজনা-র আওতায় রাজ্যে এখন পর্যন্ত ১২.১১ মেগাওয়াট ছাদ-সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সক্ষমতাকে ১৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী।
পর্যালোচনা বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলি সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*