সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৩ সেপ্টেম্বর || বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গণ্ডাছড়া মহকুমার রাইশ্যাবাড়ী ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ যাতায়াত, পাচার এবং সীমান্তপথে অনুপ্রবেশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে সরাসরি মাঠে নেমেছেন গণ্ডাছড়ার মহকুমা শাসক তথা আইএএস আধিকারিক অভিজিৎ সিং যাদব।
পূর্ববর্তী পরিদর্শন ও প্রশাসনিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় বুধবার রাইশ্যাবাড়ী সীমান্তের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা এবং সীমান্ত চৌকি (বিওপি) পরিদর্শন করেন মহকুমা শাসক। এদিন তিনি সীমান্ত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিএসএফের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন।
সীমান্তে নজরদারি, নিয়মিত টহল, স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সীমান্তপথে সন্দেহজনক যাতায়াতের ওপর নজরদারি নিয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাইশ্যাবাড়ী সীমান্তের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ যাতায়াত ও পাচারের চেষ্টা চলে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাচল এবং অবৈধ পণ্য পরিবহনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে বলে দাবি তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।
সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিএসএফের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানো এবং বিএসএফ ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।
এদিকে মহকুমা শাসক অভিজিৎ সিং যাদবের ধারাবাহিকভাবে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের আশা, প্রশাসনের এই সরাসরি নজরদারির ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
এখন নজর থাকবে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি ও টহল কতটা বাড়ানো হয়, বিএসএফ ও পুলিশের সমন্বয় কতটা কার্যকর হয় এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাইশ্যাবাড়ী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।
